অজ্ঞাত রোগে শিশুর মৃত্যু; হাসপাতালে ভর্তি আরো ১০

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২০ /

সারা দেশ যখন করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে আতংকিত, চিকিৎসাকরা করোনার সঠিক চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন তখন খাগড়াছড়িতে করোনার পাশাপাশি চিকিৎসকদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে অজ্ঞাত রোগ নিয়ে।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অজ্ঞাত রোগে গতকাল এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ১০ জন। আক্রান্তদের লক্ষণ দেখে এটি হাম রোগ মনে হলেও আসলে এটি কি রোগ তা পরীক্ষা না করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকরাও। এদিকে এই রোগ পরীক্ষার যন্ত্র নেই খাগড়াছড়িতে। তা পরীক্ষা করতে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হবে ঢাকায়। অজ্ঞাত এ রোগ শনাক্ত করতে দেরি হলে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে দুর্গম রথিচন্দ্র কারবারী পাড়া এলাকায় ২২ মার্চ থেকে হঠাৎ এই অজ্ঞাত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। খবর পেয়ে রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিক্যাল টিম ও দীঘিনালা সেনা জোনের মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত ২০ শিশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ তনয় তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) অজ্ঞাত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শিশু দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এর আগে গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ধনিতা ত্রিপুরা (৮) নামে এক শিশু মারা গেছে এবং ১ শিশুকে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ১০ জনে।

সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, শিশুদের গায়ে প্রচন্ড জ্বর। সে সাথে গায়ে লাল ফোস্কার মতো দাগ এবং চোখ মুখ লাল।

এ ব্যাপারে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত প্রসেল ত্রিপুরার (৭) মা স্বর্ণতি ত্রিপুরা জানান, গত দুদিন আগেও আমার ছেলে সুস্থ ছিলো। পরে হঠাৎ করেই আমার ছেলে এ রোগে আক্রান্ত হয়। ঠিক কি রোগ হয়েছে তা আমরা কেউ বলতে পারছিনা।

প্রান্তি ত্রিপুরার পিতা চরণ বিকাশ ত্রিপুরা জানান, গত ২২ মার্চ রোববার থেকে থেকে এলাকায় এরোগ দেখা দেয়। গত বুধবার থেকে আমার মেয়ের শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে। চোখ মুখ লাল হয়ে যায়।

রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ধনিময় ত্রিপুরা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে এলাকার শিশুরা প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। পরে তাদের শরীরে লাল লাল গুটি দেখা দিচ্ছে। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসারা এসে শিশুদের চিকিৎসা দিয়েছেন। কিন্তু এ রোগটি যেহেতু অজ্ঞাত তাই সঠিক চিকিৎসা ব্যহত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন তিনি।

এব্যাপারে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ তনয় তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, গতকাল রবিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত ২০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অধিক আক্রান্ত প্রান্তি ত্রিপুরা নামে এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল। আজ একই রোগে আক্রান্ত আরো ৯ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের লক্ষণ দেখে এটি হাম রোগ মনে হলেও আসলে এটি কি রোগ তা আমরা পরীক্ষা না করে বলতে পারছি না। এ রোগ পরীক্ষার যন্ত্র খাগড়াছড়িতে নেই। তা পরীক্ষা করতে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে।

খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ বলেন, আক্রান্তদের লক্ষণ দেখে এটি হাম রোগ বলে মনে হচ্ছে। তদের সার্বিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আসলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম এবং তারা কুসংস্কারে বিশ্বাসী। স্থানীয়দের মধ্যে টিকাভীতিও রয়েছে, টিকা দিতে হবে ভয়ে তারা হাসপাতালেও আসতে চায় না। এসব কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। তবে আক্রান্ত এলাকায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হামের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :