অপহরণের পর বিবস্ত্র করে ছবি তোলার অপমান সইতে না পেরে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা !

মশিউর রহমান কাউসার
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ২৭ জুন, ২০১৯ /

প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার জেরে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী নূপুর আক্তার (১৫) কে অপহরণ করার পর বিবস্ত্র অবস্থায় মোবাইলে ছবি তোলে প্রেমিক প্রসূনজিৎ সরকার (১৬) ও তার বন্ধুরা। এই অপমান সইতে না পেরে নিজ ঘরের বাঁশের ধর্নায় ওড়না পেছিয়ে নূপুর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বিষমপুর গ্রামে বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এ হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে। গৌরীপুর থানার পুলিশ ওইদিন রাত ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নূপুরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নূপুর উল্লেখিত গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মিজাজ খান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিমএ কলেজের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। প্রসূনজিৎ একই ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী কিল্লা তাজপুর গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বরুন সরকারের ছেলে ও একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।

নূপুরের মামা শফিকুল ইসলাম (৩২) জানান, স্কুলে লেখাপড়ার সুবাধে সম্প্রতি প্রসূনজিৎ এর সাথে পরিচয় হয় তার ভাগনি নূপুরের। এসময় প্রসূনজিৎ হিন্দু পরিবারের ছেলে পরিচয় গোপন করে নূপুরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। কিছুদিন পর সে জানতে পারে প্রসূনজিৎ হিন্দু পরিবারের ছেলে। এরপর নূপুর তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সম্পর্ক ছিন্ন করায় প্রসূনজিৎ বিভিন্ন সময়ে তার ভাগনিকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।

শফিকুল ইসলাম তার নিহত ভাগনির বরাত দিয়ে জানান, সোমবার (২৪ জুন) নূপুর একই ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর গ্রামে তার বড় বোন তাছলিমার বাড়িতে বেড়াতে যায়। পরদিন বিকেলে বোনের বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি ফেরার সময় রাস্তা থেকে প্রসূনজিৎ ও তার বন্ধুরা নূপুরকে জোরপূর্বক অটো রিকশায় উঠিয়ে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুরে জল্লী গ্রামে নিঝুম পার্কে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে নূপুরের ছবি তুলে প্রসূনজিৎ ও তার বন্ধুরা। নূপুর যদি প্রেমের সম্পর্ক ধরে না রাখে তাহলে বিবস্ত্র করা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী দেয় প্রসূনজিৎ।

এসময় এ ঘটনা টের পেয়ে পার্কের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন তাদেরকে আটক করে প্রসূজিৎ এর পরিবারের লোকজনকে মোবাইলে খবর দেন। খবর পেয়ে প্রসূনজিৎ এর বাবা বরুন সরকার ও স্থানীয় আরো কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে জল্লী গ্রামের লোকজন নূপুরকে তাদের হাতে হস্তান্তর করেন। পরে ওই দিনগত রাত ভোর ৪টার দিকে প্রসূনজিৎ ও তার সহযোগীরা নূপুরকে বিষমপুর গ্রামে তার নিজ বাড়িতে রেখে চলে যায়। মৃত্যুর পূর্বে বাড়িতে নূপুর তার মা-বাবার কাছে এই ঘটনা বলে যায়।

এদিকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি তুলার অপমান সইতে না পেরে বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে গলায় ওড়না পেছিয়ে নিজ ঘরে বাঁশের দর্নায় আত্মহত্যা করে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় নূপুর। এই ঘটনায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান নূপুরের মামা শফিকুল ইসলাম।

নূপুরের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার, স্কুলের সহপাঠি ও শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনার পর থেকে প্রসূনজিৎ ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ঘটনার মন্তব্য জানতে প্রসূনজিৎ এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল করা হলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনারদিন রাত ১১ টার দিকে নিহত নূপুরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পরদিন (বৃহস্পতিবার) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :