অবিরাম বর্ষণে দেশের তিন অঞ্চলে বন্যা

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : শুক্রবার ১২ জুলাই, ২০১৯ /

বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে, সুরমা, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, কংস, সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও তিস্তার পানি। এছাড়া যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এ কারণে ইতিমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি খারাপ। ভারি বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সতর্ক করে থাকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় যমুনার পানি জামালপুর জেলায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এসব কারণে একদিকে সিলেটসহ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়ও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

ভারি বর্ষার কারণে ফেনী, হালদা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি ওই নদীগুলোর সংলগ্ন এলাকায়ও বিস্তৃত হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশে ৯৪ স্টেশনে পানির সমতল পর্যবেক্ষণ করে। এর মধ্যে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ৬৯ পয়েন্টেই পানি বেড়েছে। হ্রাস পেয়েছে ২৩ স্টেশনে। ৭ নদী ১০টি স্টেশনে সীমার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উপরে আছে সুরমা ও সাঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে এটি বিপদসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপরে আছে।

আর চট্টগ্রামের দোহাজারিতে সাঙ্গু প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার উপরে। এ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৭৩ সেন্টিমিটার। বান্দরবানের লামা পয়েন্টে মাতামুহুরী বইছে বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার উপরে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৭৪ সেন্টিমিটার।

তিস্তা নদীর পানি ২৫ সেন্টিমিটারসহ অনেকগুলো নদ-নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দেখা দিয়েছে নদীভাঙনের। আর পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারও মানুষ। দুর্গত অনেক এলাকায় খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। দেয়া হচ্ছে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির আভাব।

পানির কারণে প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষজন। জন-জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। এতে বড় সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। চারদিকে পানির কারণে গবাদি পশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা।

এদিকে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, এখনও মেলেনি কোনো সরকারি সহায়তা। তবে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের আশ্বাস, দুর্গত এলাকার তালিকা তৈরি করে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ): ধোবাউড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় লোকজন পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নেতাই নদীর পাড় ভেঙে কয়েকটি ঘর পানিতে ভেসে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। পানি উঠে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উপজেলার দুধনই রাউতি রাস্তায় খালের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল স্রোতে রাস্তাটি ভেঙে যায়। এতে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, প্রায় ১০০ হেক্টর বীজতলা পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।

সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর ও দেয়ারাবাজার: ৬টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনপদের দিকে ধাবিত হচ্ছে বানের পানি। জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি বিকালে বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢল ও বর্ষণে জেলার অন্তত ১৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়/মাদ্রাসায় বন্যার পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৫০ গ্রামের লাখো মানুষ।

উপজেলার হাওরগুলো তলিয়ে গেছে। তাহিরপুর উপজেলায় পানিবন্দি পরিবারের লোকজনের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান বুধবার দুপুর থেকে মধ্যরাত অবধি পঁচিশ গ্রামের লোকজনের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৌকায় এসব শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন :