অযত্নে ছাল-চামড়া উঠে গেছে ময়মনসিংহ জেলার হাজার কিলোমিটার সড়কের

গৌরীপুর নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২০ /

ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ময়মনসিংহের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কগুলো। দিনদিন বাড়ছে ভাঙন আর খানা-খন্দ। এমনকি যত্ন-সংস্কারের অভাবে ছাল-চামড়া উঠে বেহাল দশা হয়েছে জেলার গ্রামীণ ও শহরতলীর হাজার কিলোমিটার সড়কের। সংস্কারের অভাবে এখন চলাচলের অনুপযোগী এসব সড়ক। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন।

জানা গেছে, তারাকান্দা উপজেলা থেকে ধোবাউড়া পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৭ কিলোমিটারই বেহাল। এই ১৭ কিলোমিটারে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য খানা-খন্দ। সড়কটি উন্নয়নে একাধিকবার দরপত্র দেয়া হলেও ঠিকাদারদের গাফিলতিতে দতিবার কার্যাদেশ বাতিল করে এলজিইডি।

অপরদিকে, এ সড়ক সংলগ্ন বওলার সুতারপাড় সংযোগ সড়কের ৫০০ মিটার অংশ এমনই বেহাল যে, প্রতিদিন মালবাহী ট্রাক-পিকআপ সড়কে বিকল হয়ে পড়ছে। হালকা যানবাহনও এ পথে চলতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। এমনকি বর্ষায় সড়কটি পায়ে হেঁটেও পার হওয়া যায় না। এ কারণে তারাকান্দা ও ধোবাউড়া উপজেলার মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।

নান্দাইল উপজেলার অনেক সড়কেও দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাবে পিচ, সুড়কি উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। মুশুল্লী চৌরাস্তা-কালীগঞ্জ বাজার সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দশা এমনই বেহাল যে, এ পথে চলাচল করতেই সাহস করে না মানুষ। বড় বড় গর্তে একবার চাকা আটকে গেলে আর সামনে যাতে পারে না কোনো যানবাহন।

গৌরীপুর উপজেলা থেকে শ্যামগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কটির প্রায় দুই কিলোমিটার চলাচলের অনুপোযোগী। এলজিইডির এ সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার। সড়কটির শ্যামগঞ্জ রেলক্রসিং, গৌরীপুর সড়কের মোড়, ধানমহাল, ইটাখলা মোড় ও মইলাকান্দা এলাকা পর্যন্ত অন্তত ১০টি স্থানে বড় গর্ত। গর্তের কারণে রিকশা, সিএনজিসহ বড় যানবাহনগুলো চলে ঝুঁকি নিয়ে। দুই বছর আগে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করা হয়। তবে অল্প দিনেই তা আবার পুরোনো রূপ ধারণ করে।

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহে ১১ হাজার ৪৪৬ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ২ হাজার ৯১১ কিলোমিটার পাকা সড়ক এসব সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য গত অর্থবছরে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অথচ নির্ধারিত সময়ে ৩০ কোটি টাকার বেশি খরচ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নূর হোসেন ভূঁইয়া জানান, নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরই মেরামত করার কথা। কিন্তু অনেক সড়কে ১০ বছরেও সংস্কার কাজ হয়নি। এছাড়াও সংস্কার কাজের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়, চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম।

আপনার মতামত লিখুন :