আজ থেকে সারাদেশে গণটিকা কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : শনিবার ৭ আগস্ট, ২০২১ /

আজ শনিবার (৭ আগস্ট) থেকে সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে শুরু হচ্ছে গণটিকা কার্যক্রম। আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ক্যাম্পেইন চালিয়ে ৩২ লাখ মানুষকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে।
গ্রাম, শহর ও দুর্গম এলাকার মানুষ ছয় দিনে পর্যায়ক্রমে টিকা পাবেন। চলবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।
টিকা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন নানান জায়গা থেকে নানা মন্তব্য এসেছে। নানা বিষয় এসেছে। আমরা সে ব্যাপারগুলোর বিষয়ে সজাগ আছি। আমরা চেষ্টা করব, ভবিষ্যতে যাতে এই ব্যাপারগুলোর পুনরাবৃত্তি না হয়। তবে টিকা নিয়ে যা হয়েছে সেটার সবটুকুর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের না।’
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাকক্ষে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আজ ৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে টিকা ক্যাম্পেইন করে ৩২ লাখ মানুষকে করোনা ভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। ২৫ বছর বা এর বেশি বয়সি জনগোষ্ঠী এই টিকা পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, নারী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অগ্রাধিকার পাবেন। এ ছাড়া এবার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডা. আবুল বাশার।
তিনি বলেন, ‘১৮ বছর বয়সি অনেকের এনআইডি নেই। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, যদি এনআইডি ছাড়া ১৮ বছর বয়সিদের টিকার আওতায় আনতে যাই, মাঠে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, সেটা আমরা সামাল দিতে পারব না। সে জন্য অনেক আলোচনা করে আমরা ঠিক করেছি বয়সসীমা ২৫ বছর হবে। আমরা চিন্তা করেছিলাম, যদি আমরা ম্যাসিভ আকারে ক্যাম্পেইন না করতে পারি বা মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করতে না পারি, তাহলে সারা দেশে যেখানে আমাদের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হবে, এত মানুষকে আমরা কীভাবে কাভার করব? এটা পাইলট প্রজেক্ট বলা যেতে পারে। আমরা নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করতে চাই। আমরা দেখতে চাই, আমাদের লোকেরা, প্রান্তিক পর্যায়ে এক দিনে কী পরিমাণ টিকা দিতে পারেন।’
রোববার ও সোমবার ইউনিয়নের যেসব ওয়ার্ডে শনিবার টিকাদান চালু ছিল, সেসব ওয়ার্ড ও পৌরসভার বাদ পড়া ওয়ার্ডে টিকা দেওয়া হবে।
তবে শনিবার থেকে সোমবার টানা তিন দিন সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম চলবে। রোববার ও সোমবার দুর্গম এবং প্রত্যন্ত এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
আগামী মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার ৫৫ বছরের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে। টিকাদান কার্যক্রমে ৩২ হাজার ৭০৬ টিকাদানকারী ও ৪৮ হাজার ৪৫৯ স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত থাকবেন।
আগামী ৭ থেকে ১২ আগস্ট ছয় দিনে সারাদেশের ১৫ হাজারের বেশি টিকাদান কেন্দ্রে প্রায় ৩২ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হবে।
ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় ছয় দিনের বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকাদান আলাদাভাবে পরিচালিত হবে। পঁচিশোর্ধ্ব যারা নিবন্ধন করতে পারেননি, তারাও এ সময় টিকা নিতে পারবেন।
৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠী, নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠী এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, দেশে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে টিকা দিতে হবে। সুতরাং এত সংখ্যক মানুষকে টিকা দিতে হলে বড় আকারে ক্যাম্পেইন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে হবে। অন্যথায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবাইকে টিকাদান সম্ভব হবে না।

আপনার মতামত লিখুন :