আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিঃ নিঃস্ব হলো ময়মনসিংহের হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : শুক্রবার ৮ জুন, ২০১৮ /

  • গৌরীপুর নিউজঃ ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এর আগেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দেড় শতাধিক দোকানপাট। ঈদের আগে নিঃস্ব হলেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে পুরো গাঙ্গিনারপাড়জুড়ে। আগুনে ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
এদিকে আগুনের সূত্রপাত ও ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নায়িরুজ্জামানকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেটে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় শতাধিক পাইকারি ও খুচরা দোকান। যেখানে জুতা, গার্মেন্টস ও কসমেটিকসের দোকানই বেশি। সকাল সোয়া ৬টায় আকস্মিক আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

খবর পেয়ে প্রথমে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পানি স্বল্পতায় তা বিলম্ব হয়। এর পর ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ, মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া থেকে আরও ৪টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় ভয়ে-আতংকে হকার্স মার্কেট লাগুয়া দোকানপাটের মালামালও সরিয়ে নেন দোকানিরা। ব্যবসায়ীদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকাজুড়ে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আগুনে হকার্স মার্কেটের সব দোকানপাট ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা ঋণ করে, সুদ নিয়ে একটু লাভের আশায় প্রত্যেকটি দোকানে ঈদসামগ্রী তোলেন। সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব এখানকার ব্যবসায়ীরা। তিনি আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা করছেন।

আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে দোকানদার হৃদয় জানান, তাদের পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস একটি জুতার দোকান। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আরেক দোকানদার রবিন ও বিপ্লব জানান, আগুনে সব শেষ। এখন আমরা পথের ভিখারী। ঈদ সামনে রেখে সুদ করে টাকা নিয়ে মাল তুলেছি একটু লাভের আশায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খন্দকার শরীফ জানান, আগুনের ঘটনা এটি সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগে এত বেশি দোকানপাটে আগুন লাগার খবর শোনেননি তিনি। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শহীদুুর রহমান জানান, পানি সমস্যার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে শহরের একমাত্র জলাধার বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে পানি এনে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।


শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড়, স্টেশন রোড এলাকায় কোনো জলাধার নেই। বেশ কয়েকটি পুকুর থাকলেও বর্তমানে শহরের একমাত্র পানির উৎস বিদ্যাময়ী স্কুলের পুকুর। ঘটনাস্থল থেকে পুকুরটি কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অর্ধ শতাধিক সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবং লুটপাট এড়াতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, খুব ভয়াবহ আগুন লেগেছে। মার্কেটের দেড় শতাধিক দোকানপাটের সবই পুড়ে গেছে। বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ক্ষতি নিরুপণে কাজ করছে। তিনি আসন্ন ঈদ বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থাৎ দু-এক দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ ও ব্যাংকঋণ প্রদানের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন :