আফগানিস্তানের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান আলী আহমাদ জালালী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : রবিবার ১৫ আগস্ট, ২০২১ /

প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির পদত্যাগের পর আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। আফগান গণমাধ্যমে খবর এসেছে, এই অন্তর্বর্তী সরকারে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক আলী আহমাদ জালালি।
আফগানিস্তানের সংবাদ সংস্থা খামা প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকেলে তালেবান প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বরাদর কাতার – আমেরিকার কূটনীতিবিদদের নিয়ে আশরাফ ঘানির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। এ বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আফগানিস্তানের হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ক্ষমতা হস্তান্তর শুরুর প্রক্রিয়ার মধ্যস্থতা করছেন।
জালালি ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আর জার্মানিতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।
রোববার বিকেল ৪টার দিকে আফগানিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানায়, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আশরাফ ঘানি।
সরকারের একজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কাবুলে হামলা হবে না, এই শর্তে তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।
এদিন বিকেলে তালেবান প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বরাদর এবং কাতার – আমেরিকার কূটনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠকের একপর্যায়ে ঘানির পদত্যাগের ঘোষণা আসে।
তালেবানের অস্থায়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল সাত্তার মিরজাকওয়াল।
তিনি বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাবুলের ওপর কোন আক্রমণ হবে না।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবানের নেতারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে যাচ্ছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
রাজধানীতে প্রবেশের সময় তালেবান যোদ্ধাদের তেমন কোনো প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে না বলে কাবুল থেকে জানিয়েছেন বিবিসির সাংবাদিক ইয়ালদা হাকিম। তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে সেখানে কাজ করছেন।
আফগানিস্তানের নিরাপত্তাকর্মী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
তালেবানের এক নেতার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানী শহরটিতে যোদ্ধাদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে বলেছে তালেবান। কেউ শহরটি ত্যাগ করতে চাইলে, তাদের এ সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাহিনীটি। এ ছাড়া নারীদের নিরাপদে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে সকালে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর জালালাবাদের দখল নেয় তালেবান। কোনো যুদ্ধ ছাড়াই তালেবান শহরটির দখল নিতে সক্ষম হয়। জালালাবাদ দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৮টির রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ এখন তালেবানের হাতে।
বাংলাদেশ সময় রোববার বিকেল ৫টার দিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ক্ষমতা আবারও তালেবানদের হাতে চলে যাওয়ার পর রাজধানী কাবুল থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন অধিবাসীরা।

আপনার মতামত লিখুন :