ইউরোপের পাঠানোর নাম করে টোগোতে মানবপাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : বুধবার ১৮ আগস্ট, ২০২১ /

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামকরে বাংলাদেশীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার টোগোতে পাচার করছে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারীচক্র । সেখানে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন করছে। নির্যাতনের চিত্র পরিবারের কাছে পাঠিয়ে আরও টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি পাচারের শিকার চারজনকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ টিম মানবপাচারের মামলাগুলো তদন্ত শুরু করেছেন। পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ছয় পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি এয়ারলাইনসের একজন কর্মকর্তা জড়িত বলে জানান। গ্রেপ্তারকৃত ছয় পাচারকারী হলেন মো. তুহিন, শামীম, এ্যানি, বজলু মাস্টার, আবদুর রব ও মতিন। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে নিজেকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এদিকে মামলার পর একটি এয়ারলাইনসের একজনর কর্মকর্তা আমেরিকা চলে গেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির মানবপাচার প্রতিরোধ সেলে মামলার তদারকি কর্মকর্তা অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামান।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে চারজন পাচারকারীদের ক্যাম্প থেকে কৌশলে পালিয়ে দেশে ফেরত এসেছে। তারা হলেন ইয়াসিন, আল-আমিন, সাইদুল ও আবুল হোসেন। তারা দেশে ফিরে পল্টন, গুলশান ৪ থানায় পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সিআইডির তদন্তে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত নরসিংদীর সুমন (টোগোতে থাকে), নরসিংদীর তুহিন, নরসিংদীর শামিম ও এ্যানি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছেন। অভিযুক্ত এ্যানির একাউন্টে মানবপাচারের টাকা জমা রাখা হতো। আর আফ্রিকায় থাকা সুমনের শ্বশুর বজলু মাস্টার মানবপাচারের ঘটনায় সহযোগিতা করত। অভিযুক্ত তুহিন ও এ্যানি মানবপাচারে নিজেদেরকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তুহিন যাদেরকে পাচার করত, তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা কমিশন বাবদ নিত বলে স্বীকার করেছে। সে ২০১৮ ও ২০১৯ সালসহ বিভিন্ন সময় কয়েকজনকে আফ্রিকায় পাচার করেছে। টাঙ্গাইল ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মানবপাচারকারী সুমনের এজেন্ট রয়েছে।
সিআইডি জানান, আফ্রিকার টোগোতে মানবপাচারকারী চক্রে বিদেশি এক সদস্য রয়েছে। তারা সেখান থেকে হোটেল বুকিং, আগাম নিমন্ত্রণ চিঠি পাঠিয়ে দিত। আফ্রিকায় মানবপাচারের ঘটনার সব কাজে একটি এয়ারলাইনসের হাসান নামে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত। বিমানের টিকিট সংগ্রহ ও বিমানবন্দরের ভেতরের ঝামেলা ওই ব্যক্তি সামাল দিত। মামলা হওয়ার খবর শুনে তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন। এ চক্র ইউরোপের কানাডা, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে টাকার বিনিময়ে প্রথমে ভিসা অন এরাইবল (বিমান বন্দরে পৌছানোর পর দেয়া হয়) প্রথমে ঢাকা থেকে ভারত, ব্যাংকক, ইথিউপিয়া হয়ে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগোতে পাঠায়। সেখানে বিমানবন্দরে তাদের ভিসা অন-এরাইবাল দিয়ে দেশে ঢুকতে দেয়া হয়। টোগোতে ঢোকার পর সেখানকার মানবপাচারকারী চক্র তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজস্ব ক্যাম্পে আটকে রাখে। সেখানে কয়েক দিন তাদের আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের চিত্র বাড়িতে মা-বারা ও পরিবারকে জানানো হয়। আদায় করা হয় আরও বাড়তি টাকা। ওই টাকা মানবাচারকারীদের বাংলাদেশের নিজস্ব লোকজনের বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রাখা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :