ইভ্যালির বিরুদ্ধে ৩৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ৮ জুলাই, ২০২১ /

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ইভ্যালির ক্রেতাদের থেকে আগাম টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না। অন্যদিকে টাকা ফেরত চাইলেও দিচ্ছে না। সাইক্লোন, আর্থকোয়েক ইত্যাদি নামে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছে ইভ্যালি। এ অবস্থায় গ্রাহক স্বার্থ ও ই-কমার্স খাতের ভাবমূর্তি রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালির ওপর তদন্ত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তদন্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ৩৩৮ কোটি টাকা ইভ্যালি আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার কথা। এ পরিস্থিতিতে গত ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ইভ্যালির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ৩৩৮ কোটি টাকা ইভ্যালি আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে দেখা গেছে, গত ১৪ মার্চ শেষে ইভ্যালির মোট দায় (প্রতিষ্ঠানটির কাছে পণ্য সরবরাহকারী ও ক্রেতাদের পাওনা) ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ইভ্যালি পণ্য নিয়ে ক্রেতাদের সরবরাহ করে, সেই মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাওনা ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর ইভ্যালি ক্রেতাদের পণ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগাম নিয়েছে ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। কিন্তু ওইদিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে সম্পদ (বিভিন্ন মালপত্র ও অন্যান্য বস্তু) ছিল ৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার। এর মধ্যে বিভিন্ন পণ্য ছিল ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার, যা ক্রেতাদের দেওয়া যেতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে ইভ্যালি যত ক্রেতার থেকে আগাম টাকা নিয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করার বা টাকা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা ওই কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তের সময় দেখা গেছে, ইভ্যালির গ্রাহক প্রায় ৪৫ লাখ। এই ব্যাপকসংখ্যক গ্রাহক লোকসানে পড়লে বা প্রতারিত হলে পুরো ই-কমার্স খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি অনেক মার্চেন্ট পথে বসে যেতে পারে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব গ্রাহক টাকা দিয়ে পণ্য বা টাকা কোনোটাই পাননি, তাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকদের তিনি কোনো জবাব দেননি।

আপনার মতামত লিখুন :