ঈশ্বরগঞ্জে শহরে চুরির হিরিক, আতঙ্কিত পৌরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : রবিবার ২৬ মে, ২০১৯ /

চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন দোকানপাটের তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত শনিবার ভোরে চার দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। দুই চোরকে আটক করতে পারলেও চক্রের তিন সদস্য পালিয়ে যায়। এ ছাড়া অব্যাহত চুরির ঘটনা ঘটতে থাকলেও অধিকাংশ চুরির ঘটনায় কেউ ধরা না পড়ায় বাড়ছে এ ঘটনা। এতে ক্ষুব্ধ বাজারের ব্যবসায়ীরা।

রাত্রিকালীন পাহারা শেষে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্ধারিত পাহারাদাররা বাড়ি চলে যান। সকাল ৭টা বেজে গেলে পাহারাদার মোহাম্মদ আলী নিজে এলাকাটি আরেক দফা ঘুরে বাড়ি যাবেন বলে স্থির করেন। বাজারের সিনেমা হল রোড যেতেই তার চোখে পড়ে, পাঁচ সদস্যের একটি দল। মোহাম্মদ বুঝতে পারেন, এরা কোনো চক্র। এগিয়ে যেতে চাইলে পালানোর চেষ্টা করে চোর চক্রের সদস্যরা। ওই সময় একাই দুই চোর চক্রের সদস্যকে ধরতে পারলেও পালিয়ে যায় অন্য তিনজন। গতকাল শনিবার ভোরে কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার আলা উদ্দিন ও বাবু মিয়া নামে দুই যুবককে আটক করেন মোহাম্মদ আলী। পরে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য মো. আবদুল্লাহর কাছে খবর পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আলা উদ্দিন ও বাবু চারটি চোকানে চুরির কথা জানায়।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশেই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কাছে আল আমিন বস্ত্রালয়ের তালা ভেঙে ২৪ হাজার টাকা ও কাপড় মিলে প্রায় এক লাখ টাকার জিনিস, মোমিন টেলিকম অ্যান্ড কম্পিউটার থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। সিনেমা হল রোডের ওয়াহেদ ক্লথ স্টোর থেকে ১৮ হাজার টাকা ও কাপড় নিয়ে যায়। একই রোডের মিম স্টোরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার সময় চক্রটি ধরা পড়ায় ওই দোকান থেকে কিছু নিতে পারেনি চক্রটি। পরে দুই চোরকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

২১ মে পৌর এলাকার পাটবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল খালেক সওদাগরের দোকানে চুরির সময় ধরা পড়ে নান্দাইলের রুবেল মিয়া নামে এক যুবক। ১৮ মে মার্কাজ মসজিদ এলাকা থেকে সিরাজুল ইসলাম ও আজিজুল হক নামে দুই ব্যক্তির দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায় চোর চক্র।

৮ মে রাতে উপজেলা পরিষদের সরকারি তিনটি দপ্তরে তাণ্ডব চালায় চোর চক্র। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার কার্যালয় এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যালয়ে চালানো হয় তাণ্ডব।

২৫ এপ্রিল পৌর বাজারের অটোরিকশা স্টেশন থেকে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি করে পালানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে ছয় নারী। তারা সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের বাসিন্দা ছিল। গত ২১ মে পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মার্কেটের সানমুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে সরবরাহ করা হলেও চোর চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হয়নি।

শনিবার ফের চুরির ঘটনা ঘটনায় দুপুরে পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস ছাত্তার ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বুলবুল চুরির ঘটনা ঘটা দোকান পরিদর্শন করেন। ওই সময় তারা অব্যাহত চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে চোর চক্রগুলো দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানায়।

পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস ছাত্তার বলেন, অব্যাহত চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কাউকে ধরতে পারছে না। সব ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হলেও চুরির ঘটনায় রহস্যজনক কারণে কেউ গ্রেফতার হয় না। এটি দুঃখজনক।

ওসি আহম্মেদ কবীর হোসেন বলেন, চুরির ঘটনার সঙ্গে পুলিশ জড়িত নয়। চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ও গ্রেফতার করতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন :