ঈশ্বরগঞ্জে হত্যা-গুম মামলার ৮ মাস পর নারী জীবিত উদ্ধার

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শুক্রবার ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ /

নিখোঁজ হওয়ার ৮ মাস পর সন্ধান মিলেছে ময়মনসিংহের এক নারীর। তবে এই সময়ের মধ্যে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে হত্যা ও গুম মামলা করেছে ঐ নারীর পরিবার। জানা যায়, শিলা বেগম (২৫) নামে এক নারীকে হত্যার পর লাশ গুম করার অভিযোগে শিলার ভাই বাদী হয়ে প্রেমিক, তার বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পানান গ্রামের। ঘটনার প্রায় আটমাস পর ময়মনসিংহের পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কর্মকর্তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে ওই নারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জনি মিয়া (২৫) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জবানবন্দি প্রদানের জন্য বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলায় বিবরণ মতে নিখোঁজ নারী উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের পানান গ্রামের চাঁনফর আলীর কন্যা। ওই গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারী চার সন্তানের জননী। ওই নারীর ছোট বোন মোছা. নুরজাহান বেগম বলেন, তিনি এক সময় নারায়গঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার ঝালকুড়ি এলাকায় বসবাস করে সেখানকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শিলা একসময় জর্ডান প্রবাসী ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে ফিরে আসেন। গত ৩১ মার্চ শিলা সিদ্ধিরগঞ্জে তার বাসায় বেড়াতে যান। পরদিন তিনি পানান গ্রামে ফিরে যাবার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু তিনি গ্রামে ফিরে যাননি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পান পরিবারের লোকজন। উদ্বিগ্ন হয়ে সকলেই নানা জায়গায় গিয়ে শিলার খোঁজ করেন। কিন্তু তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার বোন নিখোঁজের পর তার বাবা ও মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

নুর জাহান বেগম আরো বলেন, তিনি বাবা-মার সেবা করার জন্য চাকরি ছেড়ে গ্রামে চলে আসেন। এদিকে তার বড় বোন রুমা আক্তারও জর্ডান প্রবাসী। বোন নিখোঁজের পাঁচমাস পর প্রবাসী বোন (রুমা আক্তার) মোবাইল ফোনের ইমু অ্যাপসে ‘জীবনটা বড় কষ্টের’ এই নামে একটি গ্রপ থেকে একজন নারীর মরদেহের একটি ছবি পান। সেই মরদেহটির সাথে তার নিখোঁজ বোনের মিল রয়েছে। পরে ছবিটি তাদের কাছেও পাঠানো হয়। নুরজাহান বলেন, এই ছবির সাথে ও লাশের পাশে জুতার মিল দেখে তার বড় ভাই মো. আবুল মনসুর লাশটি তার নিখোঁজ হওয়া বোনের দাবি করেন। পরে পরিবারের সাথে পরামর্শ করে এ ঘটনায় আবুল মনসুর গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে ময়মনসিংহের চার নম্বর আমলী আদালতে হত্যার পর লাশ গুম করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পাশের পাড়া খালবলা গ্রামের মো. জনি মিয়া (২৫), তার বাবা আবুল হাশেম (৫০), তার ছোট ভাই আকাশ(২৩)কে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, জনি তার বোনকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে। আর এই কাজে জনিকে তার বাবা ও ভাই সহায়তা করেছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পিবিআইর পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. আবুল কাশেম (পিপিএম) কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলা তদন্তভার হাতে পেয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় জনির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াদী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার মো. আবদুল হাই পাঠওয়ারিন বাড়ি থেকে জনি ও কথিত নিহত শিলা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাস করলে তারা দুজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে দাবি করেন। এদিকে মামলায় অভিযুক্ত জনির বাবা আবুল হাসেম বলেন, হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কথা শুনে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্ত্রীকে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জনির ভাই আকাশ (১৭) জানায়, সে ঢাকায় থাকতো। ওই নারীর সাথে বড় ভাই জনি মিয়ার কী সম্পর্ক তা তার জানা নেই। ভাই ওই নারীকে বিয়ে করেছেন কিনা তা-ও আমরা জানি না। শুধু শুধু হত্যা মামলায় আমাদের আসামি করা হয়েছে। এ কারণে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহের পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) আবু বক্কর সিদ্দিক (পিপিএম) বলেন, আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত যে নির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :