ঈশ্বরগঞ্জে ৩৬ বছর পর জমির মালিকানা নিয়ে টানাটানি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ /

নির্মাণের ৩৬ বছর পর ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সোহাগী ইউনিয়নের সমাজসেবা গণমিলনায়তন কেন্দ্রের ভবন ও জমির মালিকানা নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। সমাজসেবা বিভাগ ও স্থানীয় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জমিটি নিজেদের বলে দাবি করায় এ টানাটানির সূত্রপাত।

সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, গণমিলনায়তন কেন্দ্রের ভবন থেকে তৎকালীন সময়ে ঋণ কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সামাজিক কাজ, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সমাজসেবা বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্ত র্দীঘদিন ধরে সমাজসেবা কর্তৃপক্ষ ভবনটি ব্যবহার না করায় এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এ অবস্থায় ভবনটি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করতে শুরু করে। কিন্ত সম্প্রতি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ভবনের জমি তাদের দাবি করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে ঈশ্বরগঞ্জের সোহগী ইউনিয়নের হাটুলিয়ায় গণমিলনায়তন কেন্দ্রের আধা পাকাভবন নির্মিত হয়। ১৯৮৫ সালে সমাজসেবা বিভাগের অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, গণমিলনায়তন কেন্দ্রের ২০ শতাংশ জমিদাতা হলো জমির মালিক কুতুব উদ্দিন আনছারী ও অন্যান্য লোকজন।

কিন্তু ৩৬ বছর পর কুতুব উদ্দিন আনছারীর দাবি সমাজসেবার গণমিলনায়তন কেন্দ্রকে তিনি জমিদান করেননি। ১৯৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জমিদান করেছেন হাটুলিয়া দারুচ্ছুন্নাহ এ এইচ বি দাখিল মাদ্রাসার নামে।

১৯৮০ সালে ঈশ্বরগঞ্জ-সোহাগী সড়কের ওপর হাটুলিয়া দারুচ্ছুন্নাহ এ এইচ বি দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাদরাসায় ইবতেদায়ী শাখার মৌলভী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন কুতুব উদ্দিন আনছারী। তিনি ১৯৯৮ সালে মাদরাসার নামে পৃথক তিনটি দাগে ১০ শতক জমিদান করেন।

তবে সমাজসেবা বিভাগের দাবি মাদরাসাকে যে জমি কতুব উদ্দিন দান করেছেন সেটি তাদের। মাদরাসার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় গণমিলনায়তন কেন্দ্রের ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হলে বিষয়টি নজরে আসে। উদ্ধুত পরিস্থিতিতে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগ ভবনটি ভাঙতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর সেখানে নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

মাদরাসার সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, এখানে যোগদানের পর থেকেই দেখছি ভবনটি মাদরাসা ব্যবহার করছে। জমিটিও মাদরাসার নামে, যার কাগজপত্র আছে। কিন্তু সমাজসেবা বিভাগ ভবনটি নিজেদের দাবি করছে।

এ বিষয়ে কুতুব উদ্দিন আনছারী বলেন, আমি সমাজসেবাকে কোন জমিদান করিনি। মাদরাসার নামে জমিদান করেছি।

সমাজসেবার গণমিলনায়তন কেন্দ্রটি কিভাবে নির্মিত হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে কুতুব উদ্দিন বলেন, অনেকদিন আগের কথা, বিষয়টি এখন মনে করতে পারছি না।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিজানুল ইসলাম আকন্দ বলেন, ২০ শতক জমি কুতুব উদ্দিন আনছারীর শাশুড়ি আজিজ খাতুনসহ ৬ জন দান করে দলিল করে দেন। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে তাই সব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :