উত্তরে শীতের হাওয়ার আগমনী

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ /

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের হাওয়া লেগেছে। ভোরে ঘাসে পত্রপল্লবে শিশিরবিন্দুর ঝলমলে ঝিলিক জানিয়ে যাচ্ছে শীত এসে গেছে। অন্যবছর অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে এ জেলায় শীতের আগমন ঘটলেও এবার আশ্বিন মাসের শেষ ভাগেই হালকা শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে। আর আবহাওয়া গত বছরের চেয়ে এবার স্বাভাবিক থাকবে বলেই ভাষ্য আবহাওয়া অফিসের।

রংপুর আবহাওয়া অফিস বলছে, হিমালয় কাছে হওয়ার এ অঞ্চলের আগাম শীত শুরু হয়। এখন দিনে তাপের শোষণ হয়, সে কারণে দিনে বেশি গরম অনুভূত হয়। আর সন্ধ্যার পর থেকে তাপের বিকরণ হওয়ার সাথে শীত পড়া শুরু করে, এ কারণে রাতে ঠান্ডা অনুভব হয়। তবে ডিসেম্বর থেকে ঠান্ডা বাড়তে পারে।

এদিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে এ বছর একটু আগেভাগেই শীত শীত অনুভব হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এখন ভোরে দিকে হালকা কুয়াশা থাকে; ফলে মহাসড়কে বাস ও ট্রাকগুলোকে হেডলাইট চালিয়ে চলাচল করতে হয়। শীত শীত অনুভূত হওয়ায় অনেকেই গরম কাপড় পড়ে কাজে বের হচ্ছেন।

এরপর বেলা গড়ালে তাপমাত্রা বাড়লেও বেশি থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাতভর হালকা বৃষ্টির মত টুপটুপ করে কুয়াশা ঝরতে থাকে। বিশেষ করে ধানের শীষে কুয়াশা বিন্দু বিন্দু জমতে দেখা যায়।

রংপুরের বাসিন্দারা বলছেন, গত দুই দিন ধরে ভোরবেলা শীত শীত লাগছে। এর ফলে কেউ কেউ হালকা গরম কাপড় গায়ে দিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন। আর কুয়াশা ঝরার কারণে সড়কে ভোরবেলা গাড়িগুলোকে বাতি জালিয়ে চলতে হচ্ছে।

এদিকে শীতের আগমনীর আভাস এলেও লেপ তোষাকের দোকানে এখনও ক্রেতাদের ভিড় জমেনি। কয়েকজন গরম কাপড় বিক্রেতা জানালেন, শীতের লেপ-তোষক বানানোর কাগজ শুরু হতে আরও ২০-২৫ দিন লাগবে।

অন্যদিকে শীতকালে ফসলে ভাইরাস আক্রমণের আশঙ্কায় কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে সবজি চাষে সংশ্লিষ্টদের। কারণ হালকা শীতের কারণে ফসলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আক্রমণ শুরু করে। এতে ফসলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে। উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, অসময়ে হালকা শীতের কারণে বিভিন্ন ফসলে রোগ-বালাই দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফসলের সুরক্ষায় কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :