উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট খুলতে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ

আব্দুল কাদির :
প্রকাশিত : শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯ /

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুরে ইউনিয়নের ধুরুয়া নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট খুলতে টাকা নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট মারুফের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে স্কুলের প্রধান শিক্ষক যোগসাজস রয়েছে বলে এমন দাবি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের।

স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, উপবৃত্তির টাকার বিকাশ একাউন্ট খোলার সময় স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট মারুফ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করেন। এভাবে তাদের স্কুলের ৩শ শিক্ষার্থীর নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজসে এ টাকা আদায় করেন বিকাশ এজেন্ট মারুফ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন জানান, বিকাশের নিয়ম-কানুন সর্ম্পকে তিনি প্রথমে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি জানার পর বিকাশ এজেন্ট মারুফকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা তাদের একাউন্টে ফিরিয়ে দিতে বলেন। পরবর্তীতে মারুফ সকলের একাউন্টে টাকা ফিরেয়ে দেন।

টাকা ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চাইলে, সাংবাদিকদের কথা বলার অনুমতি দেননি এ প্রধান শিক্ষক। এসময় তিনি বলেন আমি যা বলেছি তাই লিখবেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন নেই।

স্থানীয় বিকাশ এজেন্ট মারুফ জানান, আমি বিকাশের ট্রেনিং করেনি তাই বিষয়টি প্রথমে জানা ছিলনা। তাই একাউন্ট খোলার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা নিয়েছিলাম। বিষয়টি জানতে পেরে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের একাউন্টে টাকা ফেরত দিয়েছি।

এদিকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিকাশ এজেন্ট মারুফের বক্তব্যের বিরোধিতা করে জানান, তাদের একাউন্টে টাকা ফেরত দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বিকাশের টেরিটরি ম্যানেজার রিফাত বিন তারেক জানান, ট্রেনিং ছাড়া আমরা কাউকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেই না। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির একাউন্ট খুলতে কোন টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। যদি অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট এজন্টের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি ।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাংবাদিকদের জানান, উপবৃত্তির বিকাশ একাউন্ট খোলার জন্য টাকা নেওয়ার কোন বিধান নেই, যদি কেউ নিয়ে থাকেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :