একদিনে ময়মনসিংহে সেনা সদস্যসহ করোনায় আক্রান্ত ৩৫ জন, বিভাগে ৭৯

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার ১৮ মে, ২০২০ /

ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় এক সেনা সদস্যসহ নতুন করে ৭৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যা ময়মনসিংহ বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। ময়মনসিংহ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ জন। আক্রান্ত ওই সেনা সদস্য মোমেনশাহী ক্যান্টনমেন্টে মেজর পদবীতে কর্মরত আছেন।

রবিবার একক ল্যাব হিসেবে সারা দেশে সর্বোচ্চ পরীক্ষা হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে। ২ টি পিসিআর মেশিনে ৭ ধাপে সর্বমোট ৬৫৮ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. চিত্তরঞ্জন দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহ জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩ চিকিৎসক ও ৫ স্বাস্থ্যকর্মীসহ ময়মনসিংহ সদরে ২৪ জন, ঈশ্বরগঞ্জে হাসপাতালের নার্স এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এক কর্মচারীর ছেলেসহ ২ জন, ভালুকায় ৪ জন, ফুলবাড়িয়ায় ২ জন, মুক্তাগাছায় ১ জন, গোরীপুরে ১ জন এবং তারাকান্দায় ১ জনসহ জেলায় মোট নতুন ৩৫ জন।

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন জানান, যেভাবে মানুষ লাগামহীন মার্কেটিং, ঘরের বাইরে প্রয়োজন/অপ্রয়োজনে বের হচ্ছে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে না। আজ (১৮ মে) থেকে আবার মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, লকডাউন জোরদার করা হয়েছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহ জেলায় মোট করোনা সনাক্ত ৩১২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৯৭ জন।

এদিকে জামালপুরে এক চিকিৎসকসহ নতুন করে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন জানান, জামালপুর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপকসহ ৩ জন ও ময়মনসিংহ ল্যাবের নমুনা ২৫ জনসহ মোট ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদরের ৩, মেলান্দহের ২১, সরিষাবাড়ির ২, বকশীগঞ্জের ১ ও দেওয়ানগঞ্জের ১ জন।

নতুন আক্রান্তরা হলেন- শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের ৫২ বছর বয়সী একজন সহকারী অধ্যাপক। শহরের একটি মোবাইলের দোকানের ২৯ বছর বয়সী টেকনিশিয়ান। তার বাড়ি শহরের কাচারী পাড়া ফকির পাড়ায় এবং ঢাকায় কর্মরত ৪৩ বছর বয়সী একজন পুলিশ সদস্য। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের বাড়ি জামালপুরের সীমান্ত সংলগ্ন শেরপুরে বলাইয়ের চর গ্রামে। তিনি জামালপুর সদরে নমুনা জমা দিয়েছিলেন।

মেলান্দহের আদিপৈত গ্রামের ৫৭ বছর বয়সী একজন পল্লী চিকিৎসক। নাগের পাড়া গ্রামে বসবাসকারী একটি ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল প্রমোশন অফিসার। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। নয়ানগর ইউপির দাগী কমিউনিটি ক্লিনিকের ৩৫ বছর বয়সী সিএইচসিপি। মেলান্দহ হাসপাতালের ২৮ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী। বন্ধরোহা কমিউনিটি ক্লিনিকের নারী সিএইচসিপির ৭ বছর বয়সী শিশু কন্যা। এছাড়াও আক্রান্ত আরো ১৬ জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সরিষাবাড়ি হাসপাতাল এলাকার প্রগ্রেসিভ ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ৫৫ বছর বয়সী ব্যক্তি। তার বাড়ি বলারদিয়ার গ্রামে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের ২৪ বছর বয়সী কর্মচারী। তার বাড়ি ধানাটা এলাকায়। ষাঁড়মারা ইউপির গোপালপুর গ্রামের ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। দেওয়ানগঞ্জে আক্রান্ত একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ নিয়ে জামালপুর জেলায় এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪৪ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৩ জন, মারা গেছে ৩ জন।

এছাড়াও জামালপুর জেলায় ২৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন জামালপুর সদরে ৩ জন,বকশিগঞ্জে ১ জন, মেলান্দহে এক ডাক্তারসহ ২১ জন ,সরিষাবাড়িতে ২ জন এবং দেওয়ানগঞ্জে ১ জন।

এছাড়া নেত্রকোনা জেলায় আক্রান্ত ৪ জন, মদনে ১ জন,আটপাড়ায় ১ জন, বারহাট্টায় ১ জন এবং পূর্বধলায় ১ জন। এবং শেরপুর জেলায় আক্রান্ত ১২ জন। সদরে ৬ জন, নালিতাবাড়ীতে ৪ জন, নকলায় ১ জন এবং শ্রীবদিতে ১ জন।

আপনার মতামত লিখুন :