এতিম শিশু কাউসারের সব দায়িত্ব নিলেন চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার ১৬ নভেম্বর, ২০২০ /

শিশু কাওসার আহমেদের (৭) বাবা মো. হাবিবুর রহমান বছর চারেক আগে মারা যান। এর দুই বছর পর তার মা হাফসা আক্তার দূরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগে মারা যান। দরিদ্র পরিবারের ওই শিশুটি এখন দাদির আশ্রয়ে থেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করছে। আর ছোট বোন তামান্না আক্তার (৩) নানির আশ্রয়ে বড় হচ্ছে।

এতিম ওই শিশুটির লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ওই শিশুটির খোঁজ নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।

কাওসার আহমদের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া মধ্যপাড়া গ্রামে। সে সাওতুলহেরা নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া দুপুরে লেঙ্গুড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৩৫ জন এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। ইউনিয়নের ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিজ উদ্যোগে এসব উপকরণ বিতরণ করেন। এ সময় উপহারসামগ্রী নিতে আসা কাওসার আহমেদের প্রতি তার নজর পড়ে। চেয়ারম্যান কাওসারের খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, এতিম ওই শিশুটি একবারেই হতদরিদ্র পরিবারের। এ সময় তিনি শিশুটির অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করার দায়িত্ব নেন।

এ ব্যাপারে সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘ওই শিশুটির মা-বাবা অনেক আগে মারা গেছেন। পরিবারটি গরিব হওয়ায় তার লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ আমি ব্যক্তি উদ্যোগে বহন করব। শিশুটি যাতে লেখাপড়া করে ভালো মানুষ হতে পারে সে চেষ্টা করা হবে।’

শিশু কাওসার যে মাদরাসায় লেখাপড়া করে সেই মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও লেঙ্গুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকারী শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘শিশুটির দায়িত্ব নিয়ে চেয়ারম্যান একটি মহৎ কাজ করেছেন। শিশুটির কেউ ছিল না। এতদিন আমরা মাদরাসার পক্ষ থেকে খাবারসহ তার লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছি। উনার (চেয়ারম্যানের) এই উদ্যোগে আমরা চিন্তামুক্ত হলাম। আশা রাখি, শিশুটি এখন আলোর মুখ দেখতে পারবে। এভাবে বিত্তবানদেরকে এতিম-অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

শিশু কাওসার আহমেদ অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, ‘আমার আব্বা-আম্মা কেউ এই দুনিয়ায় বেঁচে নেই। চেয়ারম্যান চাচা আমার দায়িত্ব নেয়ায় আমার খুবই আনন্দ লাগছে। আমি এখন নিশ্চিন্তে লেখাপড়া করে অনেক বড় মানুষ হতে পারব।’

ঘোড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘সাইদুর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের জনসেবার কাজ করে আসছেন। তিনি কিছুদিন আগে পশ্চিম জিগাতলা গ্রামের আম্বিয়া বেগম (৭০) নামের এক বিধবাকে নিজ অর্থায়নে একটি টিনের ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। গত বছর ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে গৌরীপুর থেকে তারানগর পর্যন্ত তিন কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করেছেন।’

সোমবার পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লেঙ্গুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসেন আলী ভূঁইয়া, শিবপুর মহিলা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মোবারক হোসেন, পশ্চিম জিগাতলা মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :