এমপির বাড়িতে খাদ্য কর্মকর্তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শুক্রবার ২৫ জুন, ২০২১ /

নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের বাড়িতে লালপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে ৪ ঘণ্টা আটকে রেখে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সাদা কাগজে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তা ৩ জনকে অভিযুক্ত করে বাগাতিপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। অপরদিকে সাংসদ বকুল দাবি করেছেন, নিজ দলের প্রতিপক্ষরা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।

বাগাতিপাড়া থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন তাকে ফোন করে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলের বাগাতিপাড়া বাড়িতে যেতে বলেন। তিনি সংসদ সদস্যর বাড়িতে যান। এ সময় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং খাদ্য গুদামে গম সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চেয়ে কয়েক মিনিট কথা বলে চলে যান। এমপি চলে যাওয়ার পরপরই রোকনুজ্জামান রোকনসহ তার দুই সহযোগী রাসেল আহমেদ ও আবুল কালাম আজাদ তাকে ৪ ঘণ্টা আটকে নির্যাতন করেন। এরপর তার কাছে ২০ লাখ টাকা পাবেন দাবি করে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেন এবং সন্ধ্যায় সেখান থেকে আমাকে মুক্তি দেন।

এ ব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘খাদ্য কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার লালপুর থানায় মামলা করতে গেলে তাকে বাগাতিপাড়া থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার ভোরে তিনি ৩ জনকে অভিযুক্ত করে বাগাতিপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ২ অভিযুক্ত রাসেল আহমেদ (৩৮) ও আবুল কালাম আজাদ (৩৭) শুক্রবার দুপুরে লালপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে।’ প্রকৃত ঘটনা কী তার তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘আমার বাসায় বা বৈঠকখানায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই খাদ্য কর্মকর্তা লালপুরের গুদামে গম সংগ্রহ বিষয়ে কোনো একটা সমস্যা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি আমার কাছে সহায়তার জন্য এসেছিলেন। তাকে সরকারি নিয়মে গম সংগ্রহের কথা বলে চলে যাই। তাকে কেউ ডেকে আনেনি, আমার বাড়িতে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়টিও সঠিক নয়।’

বকুল দাবি করে বলেন, ‘দলের প্রতিপক্ষের লোকজন আমার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এমন নাটক সাজাতে গুদাম খাদ্য কর্মকর্তাকে বাসায় পাঠিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত করছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

আপনার মতামত লিখুন :