কক্সবাজার রেললাইনের প্রায় ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ২৬ জুন, ২০২১ /

৪১ শতাংশ কাজ শেষ হলেই কক্সবাজার যাবে ট্রেন

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন স্থাপনের কাজ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরই মধ্যে কক্সবাজার অংশে দুই কিলোমিটার রেল ট্র্যাক বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে আইকনিক স্টেশন, ছোট-বড় সেতু, কালভার্ট, লেভেল ক্রসিং ও হাইওয়ে ক্রসিংয়ের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলছে। সবমিলে এ পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রায় ৫৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪১ শতাংশ কাজ শেষ হলেই কক্সবাজার যাবে ট্রেন। কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান।

১৮ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলে কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। পর্যটনসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কক্সবাজারকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে চলমান করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই করোনা পরিস্থিতিতে দ্রুত গতিতে চলছে মাটিকাটা ও সেতু নির্মাণ ও রেল ট্র্যাক নির্মাণ। এভাবে কাজ চললে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে পারবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জামান, ‘আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রায় ৫৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, ২০২২ সালের জুনের (প্রকল্প মেয়াদ) মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো। এখন কিছু কালভার্টের কাজ বাকি আছে। সবশেষে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয়। এটিও আমরা শুরু করেছি। কিছু কিছু অংশে রেললাইন বসানোর কাজ চলছে। কিন্তু বর্ষা চলে আসায় পুরোদমে কাজ করা যাবে না। তাই বর্ষার বৃষ্টিপাত কমলে পুরোদমে কাজ শুরু করবো।’

রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ আমরা এখনও শুরু করতে পারিনি। প্রকল্পটি যেই এলাকা দিয়ে যাবে, সেখানে রোহিঙ্গা বসতি থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলে খুব শিগগিরই দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শুরু করবো।’

২০০১ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে রেললাইনটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছিল। ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার এবং কক্সবাজারের রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার।

এগিয়ে চলছে সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন স্থাপনের কাজ
এগিয়ে চলছে সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন স্থাপনের কাজ
এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৯ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করে সরকার। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেললাইন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে নয়টি রেলওয়ে স্টেশন, চারটি বড়, ৪৭টি ছোট সেতু, ১৪৯টি বক্স কালভার্ট, ৫২টি রাউন্ড কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। স্টেশনগুলো নির্মিত হবে- সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, ঈদগাও, রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া ও ঘুমধুম এলাকায়। এর বাইরে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে তিনটি বড় সেতু। রেললাইনে থাকবে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম এবং ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন রেললাইনে অত্যাধুনিক অপটিক্যাল ফাইভারের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থা সংযোজন এবং কক্সবাজার সৈকতে ঝিনুকের আদলে তৈরি করা হবে অত্যাধুনিক রেলস্টেশন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ১২৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার রেললাইন তৈরির জন্য মাটি ভরাট কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ। বনাঞ্চলের ভেতরে হাতি চলাচলের জন্য দুটি আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ৩৯টি সেতুর মধ্যে সবগুলোর স্প্যান ও পিলারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কক্সবাজার অংশের ২০টি সেতুতে গার্ডার বসানো প্রায় শেষের পথে। দোহাজারী অংশের ১৮টি সেতুর স্প্যান ও পিলার নির্মাণ শেষে ১২ এপ্রিল গার্ডার বসানো শুরু হয়েছে। নির্মাণাধীন আছে প্রকল্পের সাতটি স্টেশন বিল্ডিং এবং কক্সবাজারের নির্মাণাধীন সর্বাধুনিক আইকনিক স্টেশন বিল্ডিং।

আপনার মতামত লিখুন :