কার্ড থাকলেও কপালে জুটছে না বরাদ্দের চাল

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২০ /

নিজেদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (১০ টাকা কেজি) চাল ক্রয়ের কার্ড থাকলেও ডিলারের কারণে বরাদ্দকৃত চাল ক্রয় করতে পারেননি ছয় হতদরিদ্র নারী-পুরুষ। এ ঘটনাটি তদারক কর্মকর্তা অবহিত হলেও কোনো ধরনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের মনপাশা বাজারের ডিলারের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে চালবঞ্চিত ওই ছয়জন হতদরিদ্র এ প্রতিনিধিকে সচেতন কয়েকজন এলাকবাসীর ফোনে ঘটনাটি অবহিত করে প্রতিকার চেয়েছেন। তারা বলছেন, চাল না দেওয়ায় সাংবাদিকদের কেন জানানো হলো, এই কারণে ডিলার ক্ষিপ্ত হয়ে আর কোনো দিন চাল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ নিয়ে গত ১৪ এপ্রিল কালের কণ্ঠের অনলাইনে ‘চাল নিয়ে চালবাজি কার্ড থাকার পরও মিলল না চাল’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার সর্বশেষ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বাজার মনাপাশা। সেই বাজারের একটি দোকানে ১০ টাকা কেজি দরের চার বিক্রি করেন ডিলার খুররম। ২৫১ জন কার্ডধারী তার দোকান থেকে নির্দিষ্ট কার্ড দেখিয়ে ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি চাল কিনে নেওয়ার কথা। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে শানুজিয়াল গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের স্ত্রী মোসা. নুরজাহান বেগম। তাঁর কার্ড নম্বর ২৪২৪। গত ৩০ মার্চ তিনি এই কার্ড দেখিয়ে ডিলারের দোকান থেকে ৩০ কেজি চাল ক্রয় করেছেন। কিন্তু চলতি মাসের চাল নিতে এলে ডিলার মো. খুররম তাকে চাল বিতরণ শেষ হয়ে গেছে বলে জানান। ডিলারের কথা শুনে হতদরিদ্র ওই নারী কোনো কথা বলতে সাহস পাননি। একই গ্রামের সফির উদ্দিনের পুত্র রিটন মিয়ার কার্ড নম্বর ২৫২৬। তিনি গত মাসের বরাদ্দ গত ২৪ মার্চ ক্রয় করেছেন। কিন্তু এপ্রিল মাসের বরাদ্দ কিনতে গেলে ডিলার তাকে বলেন, আগে আইলা না কেরে চাল তো বিতরণ হয়ে গেছে। তিনিও ডিলারের কথার প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। একই ঘটনা ঘটেছে লিয়াকত আলী ফকিরের পুত্র সবজে আলী ফকিরের ক্ষেত্রে। তার কার্ড নাম্বার ২৫২৫। তাকেও চাল দেননি ডিলার। ২৫২৯ নম্বর কার্ডধারী কিসমত বনগ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়াকেও চাল দেননি ডিলার। ২৫৩০ নম্বর কার্ডধারী শানুজিয়াল গ্রামের লিটন মিয়া ও লিয়াকত আলীর ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। তারা সকলেই গত ১৪ এপ্রিল চাল কিনতে ব্যর্থ হন। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ পর গত সোমবার ফের ওই ডিলার চাল বিক্রয় করলেও ওই ছয়জনকে খবর দেয়নি।

উপকারভোগী রিটন মিয়া বলেন, আপনেরারে (এ প্রতিনিধি) কেরে বিচার দিলাম, এর লাইগ্যা নাহি আর চাউলই দিতো না। অহন কোহাইন আমরা কই যাইয়াম?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ডিলারের তদারক কর্মকর্তা স্বাস্থ্য সহকরী মাইজ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমার কি করণীয়। আমি তো আর তাদের বাড়ি বাড়ি যাইতে পারতাম না। আমার কাছে আইলে ব্যবস্থা করতাম। ডিলার খুররমের সাথে কথা বলতে চাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন :