কোরআন ছুঁয়ে বিয়ের শপথ, শারীরিক সম্পর্ক, অতঃপর…

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ২৬ অক্টোবর, ২০১৯ /

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন আমিনুল হক শ্যামল নামে এক স্কুল শিক্ষক। আমিনুল হক শ্যামল উপজেলার দলপা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক ও পার্শ্ববতী গৌরীপুর উপজেলার তাতিরপায়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। ভিকটিম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, তিনি দলপা ইউনিয়নের ধৈলা গ্রামের হতদরিদ্র বাবার কন্যা। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত (২২ অক্টোবর) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা শহরে নিজ বাসায় অভিযুক্ত আমিনুল হক শ্যামল ও ভিকটিম অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় শিক্ষকের স্ত্রী’র কাছে হাতে নাতে ধরা পড়ায় দীর্ঘদিনের তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানা জানি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল হক শ্যামলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় ওই কলেজ শিক্ষার্থী বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে প্রতারক আমিনুল হক শ্যামল, তার স্ত্রী রুমেলা খাতুন ও বোন সুলতানা আক্তারসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) প্রতারণার শিকার ওই শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে সে জানায়, আমি রঘুনাথপুর স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম। শ্যামল স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ার সুবাদে আমাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্যারের স্ত্রী আছে সে বিষয়টি আমাকে কখনো কোন দিন বলেনি। শ্যামল স্যার আমাকে বিয়ে করবে কোরআন শরীফ নিয়ে শপথ করে আমার সাথে প্রায় ৫ বছর ধরে গৌরীপুর বাসায় ও রামপুর বাজারের কোচিং সেন্টারে দৈহিক সম্পর্ক করে। প্রথম দৈহিক সম্পর্কের সময় বিয়ের আগেই স্যারের গৌরীপুরের নিজ বাসাটি আমার নামে লিখে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ঘটনার দিন (২২ অক্টোবর) স্যার আমাকে বিয়ে করার কথা বলে গৌরীপুর বাসায় নিয়ে যায়। আমি বাসায় যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে এক মহিলা এসে আমাকে মারধর শুরু করে। তখন আমি জানতে পারি ওই মহিলা স্যারের স্ত্রী। বাসাতে ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় লোকজন ও সাংবাদিকদের সহায়তায় গৌরীপুর থানা পুলিশসহ অভিযুক্তর স্ত্রী ওই নারীর কবল থেকে উদ্ধার হই।

প্রতারণার শিকার কলেজ শিক্ষার্থীর হতদরিদ্র বাবা জানান, আমি রিক্সা চালিয়ে আমার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখছিলাম। আমার কোন ছেলে সন্তান নেই। ওই মেয়েকে নিয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, শ্যামল মাস্টার আমার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমি বিচার চাই।

এ দিকে রঘুনাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হেলিম জানান, আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ না দিলেও নারী কেলেঙ্কারী সাথে জড়িত থাকার খবর পেয়ে বুধবার (২৩অক্টোবর) ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্য দুই শিক্ষক শফিকুল ইসলাম স্বপন ও শেফালী আক্তার জড়িত আছে কি না সে বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানা ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান জানান, থানায় মামলা দায়ের হয়েছে আসামীদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।আসামীদের ধরতে এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :