খুলছে সাংবাদিক ফাগুন হত্যার জট

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শনিবার ৭ নভেম্বর, ২০২০ /

তরুণ সাংবাদিক ফাগুন রেজা হত্যার জট খুলতে যাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গাজীপুরে আরেকটি হত্যা মামলার আসামির সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পেয়েছে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ। সোহরাব নামে ওই আসামিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জামালপুরে নেয়া হয়েছে। ৪ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।

রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, শেরপুরের সাংবাদিক ও কলাম লেখক কাকন রেজার বড় ছেলে ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি অনলাইন নিউজপোর্টাল প্রিয় ডটকমে সহ-সম্পাদক পদে কাজ করতেন। তিনি ফাগুন রেজা নামে পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২১ মে ঢাকা থেকে শেরপুরে ফেরার পথে নিখোঁজ হন ফাগুন। পরদিন জামালপুর সদরের রানাগাছা এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ওই সময় ফাগুন রেজার মোবাইল, ল্যাপটপ, পরিচয়পত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনায় একই বছরের ২৫ মে জামালপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা কাকন রেজা।

মামলার পর রেলওয়ে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ফাগুন রেজার মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত করে। মোবাইলটি ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলার তাতরাকান্দার আব্দুল মজিদের ছেলে সোহরাব নামে একজন ব্যবহার করছিলো। কিন্তু সে বিভিন্ন নাম-পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিমুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করায় তাকে ধরা যাচ্ছিলো না। এক পর্যায়ে গাজীপুর সাফারি পার্ক এলাকায় চালককে মেরে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে সোহরাব। চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলো সে। কিন্তু ওই মামলায় সে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে।

অটোচালককে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাই মামলায় ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করলেও ফাগুন রেজা হত্যায় সোহরাবই জড়িত বলে জানতে পারে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ। যাচাই-বাছাই শেষে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে ১০ অক্টোবর সোহরাবকে কাশিমপুর কারাগার থেকে জামালপুরে নেয়া হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

নিহত ফাগুন রেজার বাবা সাংবাদিক কাকন রেজা বলেন, ঘটনার সাড়ে ১৭ মাস পর আমার ছেলের হত্যাকারীদের মধ্যে মাত্র একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমার ধারণা, এটা শুধুমাত্র ছিনতাই নয় এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে। আশা করি, পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ জড়িতদের খুঁজে বের করবে।

জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি তাপস চন্দ্র পণ্ডিত জানান, ৪ নভেম্বর আসামি সোহরাবকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে তাকে আবারো আদালতে হাজির করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সে পেশাদার খুনি। বিভিন্ন থানায় তার নামে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :