গুলশানে মির্জা ফখরুল: এবার দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ /

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারি আধা সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের উদ্ধৃত্ত অর্থ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে আসলে সরকার অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেউলিয়া হয়ে গেছে। এখন যেসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের জমাকৃত উদ্ধৃত্ত আছে তা কখনো হাত দিতে হয়নি। সরকার বলছে সেটা তারা বিভিন্ন প্রজেক্টে ব্যয় করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘এটাতে সরকারের দেউলিয়াত্ব প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। এতে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে ব্যাংকগুলো যেসব ব্যাংকে ওইসব প্রতিষ্ঠানের টাকাসমূহ জমা আছে। যখনই টাকাগুলো নিয়ে যাবে তখন তারল্য সংকট দেখা দেবে ব্যাংকগুলোতে। এছাড়া যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারি ওইসব স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তাদের যেসব বেতন-ভাতা, পেনশন-গ্রাচুয়েটি –এসব অর্থ তারা সঠিকভা্বে পরিশোধ করতে পারবে বলে আমরা মনে করি না, সমস্যা তৈরি হবে।’

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে দলের গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আগামী ১৪ অক্টোবর ৮টি উপজেলায় যে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে আমরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অংশ নেয়া এই সিদ্ধান্ত নিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আসামের নাগরিকপুঞ্জি নিয়ে সেখানকার মন্ত্রীবর্গ, বিজেপি নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের যেসব বক্তব্য ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে, ১৯ লক্ষ যারা বাদ পড়েছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ বাংলদেশী নাগরিক। আমরা এহেন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

‘আমরা মনে করি যে, এই ধরনের বক্তব্য কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে যে, সরকার এ ব্যাপারে নিরব থাকছেন। এখানে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে যে বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠকে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন যে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী তাকে নিশ্চিত করেছে যে, এটা ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়। বিষয়টা যখন বাদ পড়াদের বাংলাদেশের নাগরিক বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হচ্ছে তখন কিন্তু সেটা ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয় থাকছেন না। আমরা এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা বাংলাদেশের সরকারের কাছে এই ব্যাপারে পরিস্কার ব্যাখ্যা চাই, ব্যাখ্যা দাবি করছি।’

মহাসড়কে টোল আদায়ের সরকারের সিদ্ধান্তেরও নিন্দা জানিয়েছে স্থায়ী কমিটি বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনে সেই অবস্থায় দাঁড়ায়নি যে, রাস্তার উপরে টোল আদায় করতে হবে। আমরা মনে করি জনগনের ওপর আরো একটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

স্থায়ী কমিটি বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল ম্ঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :