গৌরীপুরে উৎসব মুখর দুর্গোৎসব ॥ শিশুরা মেতেছে বিনোদনে, বসেছে বাহারি দোকান

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ /

মশিউর রহমান কাউসার :
সারাদেশের ন্যায় ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উৎসব মুখর আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব। এ দুর্গোৎসবে বিভিন্ন পূজা মন্ডপগুলোর আঙ্গিনা ও রাস্তা সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়।
শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল নাগরদোলা ও দোলনা (চরকা)। মন্ডপের রাস্তার পাশে বসেছে শামুক-ঝিনুকের সৌখিন জিনিসপত্রের দোকানসহ নানা ছোট ছোট বাহারি দোকান।

হিন্দু সম্প্রদায়ের এ উৎসবের সাথে যোগ দেন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীবৃন্দ ও মুসলমানরা। তাদেরকে দল বেঁধে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। এ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এক দৃষ্টান্ত।
নাগরদোলা ও চরকা :
মঙ্গলবার রাতে গৌরীপুর পৌর শহরে দূর্গাবাড়ী পূজা মন্ডপ পরিদর্শকালে দেখা গেছে বাদ্রার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সামনে শিশুরা মেতেছে দোলনা (চরকা) ও নাগরদোলায়।

এসময় কথা হয় নাগর দোলা ও চরকার মালিক ময়মনসিংহ শহরের ব্রাহ্মপল্লীর বাসিন্দা মিন্টু মিয়ার (৪৮) সাথে। তিনি বলেন গৌরীপুরে প্রায় ৭ বছর ধরে দুর্গোৎসব, বৈশাখী মেলাসহ অন্যান্য উৎসবে নাগর দোলা ও চরকার মাধ্যমে শিশুদের আনন্দ দিয়ে আসছেন। তিনি এ পেশার সাথে প্রায় ১৫ বছর ধরে জড়িত। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা উৎসবে তিনি যোগ দিয়ে থাকেন। এর আয় দিয়ে চলে তার তিন সদস্যের সংসার এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়া।


কথা হয় শামুক-ঝিনুকের তৈরী ঘর সাজানোর বাহারি নানা সৌখিন জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসা যুবক আব্দুল মালেক (৩০) ও উজ্জল মিয়ার (৩১) সাথে। তাদের বাড়ী কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলায়। প্রায় একযুগ ধরে তারা এ ব্যবসার সাথে জড়িত। চট্রগ্রামের কক্সবাজার এলাকা থেকে সাগরের শামুক-ঝিনুক ক্রয় করে বাড়িতে এনে নিজেরাই তৈরী করেন থাকেন নানা সৌখিন ও বাহারি জিনিসপত্র। দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা উৎসবে তারা এসব জিনিসপত্র বিক্রি করতে যান। এ পেশার আয় দিয়ে চলে তাদের সংসার ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ।


তাদের মত দুর্গোৎসবে নিজ হাতে তৈরী বাঁশের বাঁশি ও বেলুনের দোকান বসান গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের হেলাল মিয়া (৫০), খেলনার দোকান বসান তারাকান্দা উপজেলার বিসকা এলাকার শাহাদাত (৩০) ও গৌরীপুর উপজেলার শালিহর গ্রামের শাহিন মিয়াসহ (১৯) আরো অনেকেই। স্থানীয় নারী-পুরুষ ও শিশুদেরকে দোকানগুলোতে ভীড় করতে দেখা এসব জিনিসপত্র কিনতে।


আলোকসজ্জা :
দূর্গাবাড়ী পূজা মন্ডপ কমিটির লোকজন বর্ণিল ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় সাজিয়ে স্থানীয় বঙ্গবন্ধু চত্বর, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ বিজয়-৭১, প্রেসক্লাবসহ পূজামন্ডপের আশপাশ এলাকা। এছাড়া অন্যান্য পূজামন্ডপগুলোতে ছিল আলোকসজ্জাসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা।

আপনার মতামত লিখুন :