গৌরীপুরে করোনা রোগি ঘুরে বেড়াচ্ছে বাজারে ! সচেতন হচ্ছে না মানুষ

আরিফ আহম্মেদ
প্রকাশিত : শুক্রবার ৯ জুলাই, ২০২১ /

গৌরীপুরে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। তবু্ও কিছুতেই সচেতন হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
কঠোর লকডাউনে প্রশাসন, আর্মি, বিজিবি, পুলিশের নিয়মিত টহল, জরিমানার পরও ঘরে থাকছে না লোকজন। নানা অযুহাতে বাইরে বের হচ্ছেই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় করোনায় আক্রান্তের ভয়কে তারা আমলেই নিচ্ছেন না! অথচ গৌরীপুর পৌর এলাকা এখন করোনার হটস্পট। ছোট এই পৌর শহরে বর্তমানে ১৯ জন রোগী আইসোলেশনে আছেন। আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের সবসময় স্বাভাবিকভাবেই বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। অনেকের করোনার লক্ষ্মণ থাকলেও পরীক্ষা করাচ্ছেন না, তথ্য গোপন করছেন।  যে কারণে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
রবিবার (৪ জুলাই) উপজেলায় আরও ৫ জন করোনা সনাক্ত হয়, এভাবে প্রতিদিন বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গৌরীপুরে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭২১টি, তমধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ১৪৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৫৬ জন, সুস্থ হয়েছেন ৮৮ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ০৪ জন। গত ২৮ জুনের পর করোনায় আক্রান্ত আর কোন রোগী সুস্থ হয়নি। গত ৩০ জুন একইসাথে ১৭ জনের করোনা সনাক্ত হয়, যা নিয়ে উদ্ধিগ্ন খোদ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টিজেন টেস্ট নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। একাধিক রোগী এ টেস্টে প্রথমে নেগেটিভ আসার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেস্টে পজিটিভ এসেছে। অনেকে জ্বর, সর্দিকাশি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, করোনার পরীক্ষা করতে আসছেন না। এভাবে গণহারে সংক্রমণের আশংকা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটার আগে সবাই সচেতন না হলে এর চরম মূল্য দিতে হবে গৌরীপুরবাসীর।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন- গৌরীপুরে যে হারে রোগী বাড়ছে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে ৫৬ জন রোগী আইসোলেশনে আছেন। এখনো অনেকে পরীক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন। রেপিড টেস্টে ২/৩ জন রোগী নেগেটিভ আসার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেস্টে পজিটিভ এসেছে। তবে এ হার খুবই কম।
করোনার যে কোন একটি লক্ষ্মণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে পরীক্ষা করানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মারুফ বলেন- মানুষ কিছুতেই সচেতন হচ্ছেন না। আরও কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে পৌর শহরে প্রবেশের পথ ও গলির মোড়গুলোতে বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :