গৌরীপুরে কৃষকের ঘরে ঘরে কান্না, তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বোরো ধান বিনষ্ট

মশিউর রহমান কাউসার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৬ এপ্রিল, ২০২১ /

ধানের পরাগায়নের সময় কালবৈশাখী ঝড়ে আবহাওয়ার তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় শত শত কৃষকের চলতি বোরো ধান বিনষ্ট হয়ে গেছে। রোববার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। এর পরদিন হঠাৎ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় কৃষকের শত শত হেক্টর জমির বোরো ধানের শীষ সাদা বর্ণ ও ছিটা হয়ে যায়। এ বোরো ধান বিনষ্টের জমির পরিমাণ দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে স্বপ্নের বোরো ফসল বিনষ্ট হওয়ায় খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষকদের ঘরে ঘরে কান্নার রোল পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের চেয়ে অধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম জাতের বোরো ধানের শীষ বিনষ্ট হয়ে সাদা বর্ণ হয়ে গেছে। এ উপজেলায় মাওহা, সহনাটি, বোকাইনগর , রামগোপালপু ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি কৃষকের বোরো ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এছাড়া ২নং গৌরীপুর, ডৌহাখলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আংশিক ফসল বিনষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ১২ শ কৃষকের আনুমানিক ১২৫ হেক্টর বোরো ধান বিনষ্টের খবর পাওয়া গেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াতে ফসল বিনষ্টের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কৃষকদের বোরো ধান ক্ষেতে সার্বক্ষণিক পানি ধরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

গৌরীপুর ২নং ইউনিয়নের হতদরিদ্র বর্গাচাষী রবিকুল ইসলাম (৪৫) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। তার সম্পূর্ণ বোরো ধান বিনষ্ট হয়ে গেছে। এখন স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে তিনি কি খাবেন ?
রামগোপালপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, ধার দেনা করে তিনি ১০০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। তার সম্পূর্ণ ধান বিনষ্ট হয়ে গেছে।
এছাড়া ফসল বিনষ্ট হয়েছে বোকাইনগর ইউনিয়নে কাশিমপুর গ্রামের কৃষক মুক্তার উদ্দিন, মাওহা ইউনিয়নের কৃষক আবু ছিদ্দিক, এমদাদুল হক, আর্শেদ আলীসহ আরও শত শত কৃষকের।
এদিকে শত শত হেক্টর জমির বোরো ধান বিনষ্ট হওয়ায় স্থানীয় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। তাদের মাঝে বিরাজ করছে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা। ভবিষ্যত খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি করেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা।

আপনার মতামত লিখুন :