গৌরীপুরে জব্দ গাছের মালিক খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

আরিফ আহম্মেদ
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৩ মার্চ, ২০২১ /

উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রাম থেকে ১১দিন আগে মধ্যরাতে জব্দকরা ২ হ্যান্ডট্রলি ভর্তি রেইন্ট্রি গাছের মালিকের সন্ধান আজও পায়নি পুলিশ! আটকের পর থেকে লক্ষাধিক টাকার গাছ হ্যান্ডট্রলিসহ থানা কম্পাউন্ডে পড়ে আছে।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, জব্দকৃত গাছের প্রকৃত মালিকের সন্ধান আজও পাওয়া যায়নি। কোন অভিযোগ বা কেউ
মালিকানা দাবী না করায় মামলা দায়ের করা যাচ্ছে না। মাদরাসার সীমানায় যিনি জায়গা ও গাছের মালিকানা দাবী করছেন, তার মালিকানার বিষয়টি পরিষ্কার
নয়। এখন গাছগুলোর ব্যাপারে আদালতের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ কিল্লা বোকাইনগর ফাজিল মাদ্রাসার সীমানার ভিতর থেকে গাছগুলি কেটে নিয়ে আসার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করে গৌরীপুর থানার পুলিশ। তবে, আটকের পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর জন্য শুরু থেকেই মালিকানা অস্বীকার করে আসছে। তবে গাছ ক্রেতা নাজিম উদ্দিন দাবী করছেন- তিনি মাদরাসার সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ এর উপস্থিতিতে প্রিন্সিপাল সায়িদুুল ইসলামের হাতে গাছ ক্রয়ের ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি মাদরাসার সভাপতি ও প্রিন্সিপাল।

এ ব্যাপারে গৌরীপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল আলম বলেন- গাছ আটকের পর ঘটনার তদন্তে গেলে মাদরাসার জায়গার দাতা পরিবারের সদস্য ফারুক নামে এক ব্যাক্তি গাছের জায়গার মালিকানা দাবী করে বলেন, তিনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুরোধক্রমে গাছগুলো বিক্রি করেছেন।

বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে ফারুক বলেন- গাছগুলো সরাসরি আমি বিক্রি করিনি, মাদরাসার প্রিন্সিপালের মাধ্যমে বিক্রয় করা হয়েছে। ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি আমাকে দিয়েছেন। এরপূর্বে গাছগুলো কাটার জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ করেছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ বলেন- যেহেতু গাছগুলোর জায়গার মালিকানা নিয়ে একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে, সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মেপে সীমানা নির্ধারণের জন্য তাদের বলা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে গাছ বিক্রি হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :