গৌরীপুরে টানা ২২ দিন দরিদ্র কৃষকের ধান কাটলো ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : রবিবার ২৪ মে, ২০২০ /

চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহেরর গৌরীপুরে ধানের ভালো ফলন হয়। কিন্তু করোনার প্রভাবে শ্রমিক সঙ্কটে পাকা ধান গোলায় ভরতে পারছিলোনা দরিদ্র কৃষক। উল্টো বৈরী আবহাওয়ায় জমিতেই ধান নষ্টের উপক্রমে দিনদিন মলিন হয়ে যাচ্ছিলো কৃষকের হাসিমুখ।

এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হাতে নেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল মুক্তাদির শাহীন।

ধানকাটার জন্য ছাত্রলীগের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে গড়ে তুলেন ২০/২৫ জনের একটা দল। ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে খোঁজ নিয়ে তালিকা করেন দরিদ্র কৃষক ও বর্গাচাষির।

এরপর গত ৩০ এপ্রিল থেকে ছাত্রলীগ নেতা শাহীনের নেতৃত্বে ওই দলটির সদস্যরা রোযা রেখে বিনা পারিশ্রমিকে কৃষকের ধান কাটা শুরু করে। গত ২২ মে তাদের ধান কাটা কর্মসূচি শেষ হয়।

এই টানা ২২ দিন বোকাইনগর ইউনিয়নের অষ্টগড়, স্বল্পপশ্চিমপাড়া, পাঠানটুলা,ত্রিশঘর, গড়পাড়া, বালুচরা,তেলিহাটি, মাইজহাটি,খাজান্দর, বাঘবেড় সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২৫ জন দরিদ্র কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে ছাত্রলীগের এই দলটি।

তবে ধানকাটার কাজে অনভিজ্ঞ হওয়ায় কাঁচি দিয়ে হাতের আঙুল কেটে আহত হয়েছেন কয়েকজন। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে ধান কাটায় শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়েছেন কয়েকজন। কিন্ত তারপরও থেমে নেই তাদের ধান কাটা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরো কৃষকের ধান কাটা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

বোকাইনগরের বাসিন্দা কৃষক আক্কাস আলী বলেন আমি গরিব মানুষ। টেকা দিয়া ধান কাটানির খেমতা ছিলনা। চোখের সামনে সোনার ধান খেতেই নষ্ট হইতাছিলো। খবর পাইয়্যা শাহীন লোকজন লইয়্যা ধান কাইট্যা দিয়ে গেছে।

বোকাইনগরের অপর বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন এমনিতেই ধান কাটানির কামলা পাইনা। পাইলেও লাগে দুই/ তিন ডবল মুজুরি। হেরমইধ্যে বান -তুফানে ধান খেতেই নষ্ট হইতাছিন। শাহীনরা আইয়া পড়ে ধান কাইট্যা দিয়া গেছে।

আল মুক্তাদির শাহীন বলেন করোনা পরিস্থিতিতে
সবাই ঘরবন্দী হলেও কৃষক কিন্ত ঘরে বসে থাকেনি।
তারা হাড়ভাঙা কষ্ট ও পরিচর্যা করে ধান উৎপাদন করেছে। তাই বৈরী আবহাওয়া কিংবা শ্রমিক সঙ্কটে
দরিদ্র কৃষকের ধান যেন নষ্ট না হয় তাই আমরা রোযা রেখে তাদের ধান কেটে মাড়াই বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :