গৌরীপুরে নির্মাণের চার বছর পরও চালু হয়নি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : বুধবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ /

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চার বছর আগে শেষ হলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল মা ও শিশুর চিকিৎসার জন্য আর জেলা শহরে ছুটতে হবে না। তবে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় তিনতলা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির। ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয় দেড় কোটি টাকা।

নির্মাণ কাজ শেষে ২০১৫ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাসেবা চালু হলে মায়েদের মৃত্যুর হার কমবে, মা-শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখা, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ, যৌন রোগসহ এইচআইভি থেকে রক্ষা, পরিকল্পিতভাবে পরিবার গঠন, কম সন্তান নিয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছলতা আনা, সন্তানদের পুষ্টিকর খাবারসহ মৌলিক চাহিদাপূরণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধে প্রয়োজনে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়া, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব ও আসবাবপত্রের অভাবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার চার বছর পরও মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না।

মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হলে সেখানে একজন মেডিকেল অফিসার, ২ জন এফ ডব্লিউ ডি সহ নানা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এ পর্যন্ত ভবনটি চালু না হওয়ায় একজন সিকিউরিটি গার্ড, একজন ক্লিনার, একজন নার্স ও একজন ভিজিটর সেখানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালু রেখেছেন।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম মিন্টু জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসাসেবা চালু হবে। এলাকাবাসী সহজেই সেবা পাবেন। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমবে। কিন্তু এলাকাবাসীর সেই আশা অপূর্ণই থেকে গেল।এই ভবনে কবে নাগাদ চিকিৎসাসেবা চালু হবে কেউ জানে না।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. ফেরদৌস আরা বলেন, ‘মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে আসবাবপত্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে লোকবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

আপনার মতামত লিখুন :