গৌরীপুরে পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ভিজিডি’র তালিকা চুড়ান্ত !

মশিউর রহমান কাউসার
প্রকাশিত : সোমবার ১৯ এপ্রিল, ২০২১ /

সরকারি পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নে সরকারের দুস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) ২০২১-২২ চক্রের তালিকা চুড়ান্ত করার অভিযোগ ওঠেছে। এ ইউনিয়নে ভিজিডি তালিকায় মোট ২৮৮ জন উপকারভোগীর মাঝে ৬৮ জনই হচ্ছে ভিজিডির বিগত দুই চক্রের উপকারভোগী অথবা সরকারের অন্য কোন ভাতার উপকারভোগী। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন না করেই ভিজিডির কার্ড ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।

মইলাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ জানান, তিনি একটি মামলায় কারাগারে থাকাকালীন সময়ে এ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়া ও ইউনিয়ন সচিব মোবারক হোসেন অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ২০২১-২২ চক্রের তালিকা চুড়ান্ত করেন। এ তালিকায় ভিজিডির বিগত দুই চক্রের উপকারভোগী ২৮ জন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর উপকারভোগী ২৭ জন, বিধবা ভাতার উপকারভোগী ২ জন, মাতৃত্ব ভাতার উপকাভোগী ১ জন, অন্যান্য ভাতার উপকারভোগী ও বিত্তশালী রয়েছেন আরও ১০ জন।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এ অনিয়ম দুর্নীতি দৃষ্টিগোচর হলে তিনি এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ পরিচালক ফেরদৌসী বেগমের নিকট ২২ মার্চ একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরদিন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা ভিজিডি কমিটির সদস্য সচিব সুলতানা বেগম আকন্দকে এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য পত্র দেন উপ পরিচালক ফেরদৌসী বেগম।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এ অনিয়মের ঘটনা নিজে তদন্ত না করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ইউপি সচিব মোবারক হোসেনকেই এ ঘটনা তদন্তপূর্বক অনতিলম্বে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য ৩১ মার্চ নির্দেশক্রমে পত্র দেন। ইউপি সচিব অজ্ঞাত কারনে অদ্যবধি পর্যন্ত এ ঘটনার প্রতিবেদন জমা দেননি বলে জানান এ ইউপি চেয়ারম্যান।
এদিকে অভিযোগের তদন্ত না করেই এ ভিজিডি কর্মসূচীর উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। এই দুর্নীতি অনিয়মের সাথে জড়িতদের সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন ও প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে ভিজিডি কার্ড বিতরণের দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ।

মইলাকান্দা ইউপি সচিব মোবারক হোসেন ভিজিডির তালিকায় কিছু অসঙ্গতি ও অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, এ ইউনিয়নে উপকারভোগীদের অনলাইনে ৭০০ আবেদন প্রাথমিক যাচাই করে চুড়ান্ত করতে উপজেলা ভিজিডি কমিটি নিকট প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা ভিজিডি কমিটি এ ইউনিয়নে ২৮৮ জন উপকারভোগীর নাম চুড়ান্ত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে কেন এ প্রশ্নের জবাবে ইউপি সচিব বলেন, দ্রæতই তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা বেগম আকন্দ জানান, অভিযোগের তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত উপকারভোগীদের কার্ড বাতিল করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা ব্যতিত সকল উপকারভোগীদের মাঝে ইতোমধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিজে তদন্ত না করে ইউপি সচিবকে কেন তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দিলেন এ প্রশ্নের জবাবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, সাধারনত ইউনিয়ন কমিটির প্রেরিত তালিকা উপজেলা কমিটি চুড়ান্ত করে থাকে। এক্ষেত্রে অনিয়ম হয়ে থাকলে এর দায় ইউনিয়ন কমিটির। এ জন্যই ইউপি সচিবকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ পরিচালক ফেরদৌসী বেগম জানান, অভিযোগের তদন্ত কাজ চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপেক্ষামান উপকারভোগীদের এ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :