গৌরীপুরে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ২২ এপ্রিল, ২০২১ /

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা ইকরাম হোসেন খান মামুন (৪৪) কে কুপিয়ে আহত করার পর উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে স্থানীয় প্রতিপক্ষ। এ মামলায় আসামী করা হয় মামুনের নিরপরাধ দুই ভাইকে। এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে গৌরীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকরাম হেসেন খান মামুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মামুন বলেন, ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার ছেলের নাকের এক্সরে রিপোর্ট আনতে কালিপুর বাজার পশ্চিম লাইন এলাকায় সোমা প্যাথলজিতে গিয়েছিলেন তিনি। এসময় এ প্যাথলজির পরিচালক আনোয়ার হোসেন ওরফে আয়ূব খান (৪৯) রিপোর্ট দিতে গড়িমসি শুরু করেন। এক্সরে রিপোর্ট না পেয়ে তখন মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে প্যাথলজির ভেতরে বিভিন্ন অসঙ্গতি ও অনিয়মের ভিডিও ধারন করেন তিনি। এতে আইয়ূব খান ক্ষিপ্ত হয়ে তার সাথে তুমুল বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি প্যাথলজির বাইরে রাস্তায় আসতেই মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার জন্য আয়ূব খানের নেতৃত্বে তাকে আক্রমন করে কয়েকজন। এ আক্রমন থেকে বাঁচতে মামুন তখন দৌঁড়ে নিজ বাসায় আশ্রয় নিলে সেখানে হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাত্ব জখম করে। এসময় বাসার জিনিসপত্র ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
এ হামলায় গুরুত আহত হয়ে মামুন প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। এ হামলার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এ মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মামুন।

মামুন বলেন, পুলিশকে ম্যানেজ করে তিনি এবং তার নিরপরাধ দুই ভাই মাসুদ পারভেজ ও সাতিল খান লিমন কে আসামী গৌরীপুর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন আয়ূব খান অথচ ঘটনার দিন তার ছোট ভাই লিমন গ্রামের বাড়িতে ও মাসুদ চট্রগ্রামের হাওলাপুরী দরবার শরীফে অবস্থান করছিলেন বলে জানান মামুন।

প্রতিপক্ষ আয়ূব খানের মামলার বিবরনে উল্লেখ করা হয়েছে ঘটনারদিন হামলা করে আয়ূব খানকে হাড়কাটা রক্তাত্ব জখম এবং প্যাথলজিতে ভাংচুর ও লুটপাট করেন তিনি। এ বিষয়ে মামুনের বক্তব্য হচ্ছে প্যাথলজিটি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে জানান মামুন।
এছাড়া মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে আহত আয়ূব খানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করার পর তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে আয়ূব খান ময়মনসিংহ মেডিকেল কোন চিকিৎসা নেয়নি। অথচ গেীরীপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত না করেই ৩২৬ ধারা দিয়ে মামলা রেকর্ড করেন বলে উল্লেখ করেন মামুন। এসময় সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরীপুর থানার এস আই জামাল হোসেন জানান, থানায় বাদীর মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তদন্ত হয়ে থাকে। উল্লেখিত পাল্টাপাল্টি দুটি মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :