গৌরীপুরে শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রতিবাদ সভা

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৭ মে, ২০১৯ /

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর কর্তৃক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খানের নিকট ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি ও অসৌজন্যমূলক আচরনের ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি ইউএনও ফারহানা করিমের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৭ মে) বিকেলে ইউএনও’র কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সভায় হয়।

এতে উপস্থিত উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এ সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহিত সিদ্ধান্ত সমূহ রেজুলেশন আকারে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও ফারহানা করিম।

এ প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহম্মদ শফিকুল ইসলাম খান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল করিম, কৃষি অফিসার লুৎফুন্নাহার, সিনিয়র মৎস্য অফিসার জান্নাত-এ-হুর, উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মোঃ ওয়াহেদুল হক, নির্বাচন কর্মকর্তা সজল চন্দ্র সরকার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, বিআর ডিবি কর্মকর্তা কাজী সোয়াইব আলী, ভেটেনারী সার্জন ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী তহুর উদ্দিন, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন, পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা শওকত ওসমান, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর মাকসুদা আক্তার বানু, এটিও ইকবাল হোসেন, মোজাহিদুল ইসলাম, ফেরদোসী জান্নাত খান, ফারজানা জান্নাত খান প্রমুখ।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর ঘটনার এক সপ্তাহ পূর্বে মোবাইলে আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর আরো বেশ কয়েকবার টাকার জন্য কল করলে আমি তার কল রিসিভ করিনি। বৃহস্পতিবার (২ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে গৌরীপুর উত্তর বাজার এলাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে যাই। এসময় সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর উপস্থিত হয়ে আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। আমি তখন বলি কিসের টাকা। এ কথা বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলার হুমকী দিয়ে নানা অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। তাৎক্ষণিক এ ঘটনাটি তিনি ইউএনও ফারহানা করিমকে অবগত করেন।

পরে উনার (ইউএনও’র) পরামর্শক্রমে তিনি ওইদিন রাতে গৌরীপুর থানায় শহিদুল ইসলামের অন্তরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অসৌজন্যমূলক আচরনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে শহিদুল ইসলাম অন্তর চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক স্কুলে দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরীর চাকুরি দিতে জনৈক এক ব্যক্তির জন্য ওই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট সুপারিশ করেছিলেন তিনি।

এ চাকুরি নিশ্চিতের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ হিসেবে দাবিকৃত নগদ ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সুপারিশকৃত ব্যক্তির চাকুরি হয়নি। পরবর্তীতে ঘুষ হিসেবে নেয়া ৫ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে, টাকা নেয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন টাকা ফেরত দিতে তাগিদ দেয়ায় উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

এদিকের শহিদুল ইসলামের অন্তরের কাছ থেকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে ঘুষ নেয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন শফিকুল ইসলাম খান।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :