গৌরীপুরে সুফল প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি, খোঁজ নেই বন কর্মকর্তার

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত : বুধবার ৪ আগস্ট, ২০২১ /
Exif_JPEG_420

ময়মনসিংহের গৌরীপুর শাহগঞ্জ বাজার গাগলার মোড় থেকে ভোটের বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কে জারুল, চিকরাশি, আকাশমনি, আমলকী, হরতকী, বহেরা, কাঁঠাল, জাম, নীম, তেতুলসহ ৭ হাজার গাছ রোপন করেছে গৌরীপুর এস.এফ.এন.টি.সি, ময়মনসিংহ বন বিভাগ।

গ্রীণ হাউজ এফেক্ট মোকাবেলায় দেশে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বনায়নের। বিশেষ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বন অধিদপ্তর কর্তৃক টেকসই বন ও জীবীকা (সুফল) প্রকল্প, ষ্ট্রীপ বাগান সৃজন- ২০১৯-২০ নামে বৃক্ষরোপণের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গৌরীপুর বন বিভাগ।
Exif_JPEG_420
প্রকপ্লের সাইনবোর্ডে এরকম তথ্য থাকলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রথম ধাপের সাত হাজার চারাগাছের বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে অনিয়ম আড়াল করতে একমাস পূর্বে অন্যপ্রকল্পের ছোট ছোট কিছু চারাগাছ আবার রোপণ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে প্রকল্প সড়কে দেখা যায়, প্রথম ধাপের অল্প কয়েকটি গাছ ঠিকে আছে, একমাস পূর্বে লাগানো চারাগাছ খাচ্ছে ছাগলে। কাগজপত্রে সুফল প্রকল্প বিশেষ যত্নের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে বিশেষ যত্নের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি।

প্রকল্প এলাকা টাঙাডিপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান- গাছগুলোর কোন যত্ন নাই, লাগানোর সময় সার, গোবরও দেয় নাই।

বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল হক এমদাদ জানান- সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সুফল প্রকল্প বিষয়ে বন কর্মকর্তা কারো সাথে কোন পরামর্শ করেননি। প্রকল্পটি আমার ওয়ার্ডে হলেও আমাকে কিছু জানানো হয়নি।

সাত কি.মি সড়কে জনপ্রতি মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে ৩ জন পাহারাদার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের কোথাও দেখা যায়নি। অগ্রাধিকারমূলক এই প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যয়ও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। শুরু থেকেই বিশেষ যত্নসহকারে প্রয়োজনীয় সার, গোবর দিয়ে প্রস্তুতির জন্য বরাদ্দ থাকলেও গৌরীপুর বন কর্মকর্তা তার কিছুই দেননি, তবে এ বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ঠিকই উত্তোলন করেছেন।
জানা যায়, কেবল সার গোবর ক্রয় বাবদ ১ লাখ টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের সাইনবোর্ডে বরাদ্দ ও ব্যয়ের কোন তথ্য নেই। শুধু সুফলা প্রকল্প নয়, গৌরীপুর বন বিভাগ অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে লাগানো বেশির ভাগ চারাগাছ তদারকির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বাগানের বিক্রয়কৃত গাছের লভ্যাংশ তিনি সমিতির সদস্যদের বিতরণ না করে নিজের একাউন্টে রেখে দেন। বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হচ্ছে সুবিধাভোগীরা। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে রোপনকৃত লাখ লাখ টাকার গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বনদস্যুরা। এসব বিষয়ে কখনো মুখ খোলেন না রেঞ্জার। অভিযোগ রয়েছে তাঁকে ম্যানেজ করেই কাটা হচ্ছে এসব গাছ।

রেঞ্জার লুৎফর রহমান মাসে ১/২ দিন অফিসে আসলেও ৩০/৪০ মিনিটের বেশি সময় কার্যালয়ে অবস্থান করেন না। মালী ও পাহারাদারের তত্ত্বাবধানে চলে গৌরীপুর বন কার্যালয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গৌরীপুর বন সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মোঃ লুৎফর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে প্রকল্প বিষয়ে কোন তথ্য তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন- কাগজপত্র না দেখে কিছু বলা যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন :