গৌরীপুরে ৫৬টি মন্ডপে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি

শফিকুল ইসলাম মিন্টু
প্রকাশিত : শনিবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ /

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ৫৬টি স্থায়ী-অস্থায়ী পূজা মন্ডপে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।

প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা প্রস্তুতের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি চলছে সার্বজনিন স্থায়ী মন্দিরগুলো ঝাড়-মুচ রং ও অস্থ্য়াী মন্দির নির্মান ও সুদৃশ্য বিশাল প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণ এবং বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জার পরিকল্পনা ও কাজকর্ম। বেলতলায় ষষ্টী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মুল দেবী বন্দনা, চলবে ৫ দিন ব্যাপি অর্থাৎ ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি অরুন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র কর জানিয়েছেন, এ বছর গৌরীপুর পৌর শহরে ১৫টি পূঁজাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সর্বমোট ৫৬টি পূঁজা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তার মাঝে পৌর এলাকার মাস্টার পাড়া, বাগানবাড়ী, কালিখলা, ষ্টেশনরোড, মধ্যবাজার, মধ্যবাজার পালমন্দির, হরিজন পল্লী, বালুয়াঘাট ঋষিবাড়ী, দুর্গাবাড়ি, চকপাড়া, চকপাড়া কালীবাড়ি, পাছেরকান্দা বর্মনপাড়া, পূর্ব দাপুনিয়া, সরকারপাড়া, পুরাতন রাইছমিল মন্দির সহ ১৫টি ও উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ বাজারে ৭টি, গৌরীপুর ইউনিয়নে ২টি, অচিন্তপুর ইউনিয়নে ৪টি, মাওহা ইউনিয়নে ৪টি, সহনাটি ইউনিয়নে ২টি, বোকাইনগর ইউনিয়নে ৪টি, রামগোপালপুর ইউনিয়নে ৪টি, ডৌহাখলা ইউনিয়নে ১১টি, ভাংনামারী ইউনিয়নে ১টি ও সিধলা ইউনিয়নে ২টি সার্বজনিন বারোয়ারী দুর্গাপূঁজা অনুষ্ঠিত হবে।

একজন মৃৎশিল্পী কয়েকটি মন্ডপে মূর্তি তৈরির অর্ডার নেওয়ার কারণে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। সাথে রয়েছে মূর্তি সুন্দর করার অঘোষিত প্রতিযোগিতা। কালীখলা বাজার কালী মন্দিরের মৃৎ শিল্পী সুকেশ পাল বলেন (৫৫), পিতার কাছ থেকে এ পেশার শিক্ষা গ্রহণ। পারিবারিক ঐতিহ্য আর ভালো লাগায় ৩৫ বছর যাবত এ পেশায় আছেন। এ বছর আটটি মন্দিরের মূর্তি তৈরীর অর্ডার নিয়েছেন। সারা বছরই তিনি মূর্তি তৈরীর কাজ করে থাকেন। এ পেশার মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন তিনি।

কালীখলা বাজার কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদ শংকর ঘোষ পিলু বলেন, প্রশাসনসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় সব কিছু ভাল ভাবেই চলছে। প্রশাসনের নিয়োজিত কর্মকর্তা প্রতিমা তৈরীর সময় থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রতিদিনই মনিটরিং করছেন।

গৌরীপুর পৌরসভার ১৫টি পূঁজা মন্ডপের নিরাপত্তার জন্য পৌরসভার মেয়রের উদ্যোগে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তিনি মন্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরো স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম জানান, দুর্গাপূঁজায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রতিমা তৈরীর সময় পূঁজা মন্ডপের নিরাপত্তার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে প্রতিটি মন্ডপে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজাঁ চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তার জন্য উপজেলায় একটি আইন শৃংখলার বিশেষ সভাও করা হয়েছে।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যেই পূঁজা মন্ডপগুলোতে পুলিশ টহল দিচ্ছে, পূঁজা চলাকালীন সময়ে প্রতিটি মন্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং সেই সাথে থাকবে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের টহল।

আপনার মতামত লিখুন :