ছবি তোলার নিপুণ কারিগর আপন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৯ জুন, ২০২১ /

ছাত্রজীবনেই ফটোগ্রাফির নেশা পেয়ে বসে মনন সরকার আপনের (২০)। এসএসসি পাশ করেই বাবার কাছে আবদার করেন নতুন ক্যামেরা। পড়াশোনা ক্ষতির শঙ্কায় ছেলের আবদার রক্ষা করেনি বাবা।

তবে মা চাইলেন গয়না বেচে ক্যামেরা কিনে দিতে। কিন্ত রাজি হলেন না আপন। ভাড়া করা ক্যামেরায় ফটোগ্রাফির কাজ করে নিজেই কিনে ফেলেন ক্যামেরা। পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফির কাজ করে এখন আয় করছেন তিনি।

আপনের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের বাড়িওয়াল পাড়ায়। তার বাবা মানিক সরকার পেশায় মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী। মা বিউটি সরকার গৃহিণী।

গৌরীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ানিংয়ের শিক্ষার্থী আপন মূলত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার। বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি তোলেন। ছাত্রজীবনেই এই পেশায় জড়াবেন এমনটা ভাবেননি। কিভাবে জড়ালেন সেই গল্পটা বের হয়ে আসলো তার মুখ থেকেই।

মনন সরকার আপন বলেন, তখন আমি নবম শ্রেণির ছাত্র। প্রতিবেশী বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্যামেরায় ছবি তুলছিলেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফার সিফাত ভাই। তার জাদুমাখা হাতের তোলা ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হই। পরে ইন্টারনেট ও ইউটিউব দেখে ফটোগ্রাফির কাজ আয়ত্ত করি। পাশাপাশি সুমন স্যার, ফটোগ্রাফার অনিক ভাই, সিফাত ভাই ও ফ্রিল্যান্সার অনিক ভাইয়ের সাহচর্যে থেকে কাজ শুরু করে দেই এই পেশায়।

২০১৮ সালে এসএসসি পাশ করে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন আপন। পরে সহপাঠী অপূর্ব রায়কে নিয়ে ওই বছরেই ‘এএস ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নামে অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফি, স্টেজ, ফুলশয্যা ও বিয়েবাড়ি সাঁজানোর কাজ শুরু করেন।

শুরুর দিকে আপন ভাড়া করা ক্যামেরায় ওয়েডিং ফটোগ্রাফির কাজ করতো। ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ায় তাদের কাজের পরিধি আশেপাশের জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে আয়ের টাকা দিয়েই নতুন ক্যামেরা, লাইটিং, কম্পিউটারসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কিনে ফেলেন আপন। এখন তার একটাই লক্ষ প্রতিষ্ঠানের পরিধি ও সেবা বাড়ানো।

পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি তোলার কাজটা বেশ আনন্দের সাথেই করেন আপন। স্থির ও চলমান দুই ধরণের ছবি তুলেন তিনি। মাসের প্রতিটা সপ্তাহই আপনের শুরু হয় নতুন বিয়ে, নতুন দম্পতি দিয়ে। তার হাতে তোলা বিয়ের স্থির ও চলমান ছবিগুলোতে নবদম্পতির দুর্লভ মুহূর্তগুলো জীবন্ত হয়ে থাকে স্মৃতির আয়নায়।

মনন সরকার আপন বলেন, বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরি করার ইচ্ছা। চালিয়ে যেতে চাই ওয়েডিং ফটোগ্রাফির কাজ। কারণ ছবি তোলা আমার যতটা না পেশা, তার চেয়ে বেশি নেশা। এখন তো বিয়ে বাড়িকে মঞ্চ বানিয়ে ছবি তুলছি। স্বপ্ন দেখি একদিন পুরো বিশ্ব আমার ছবি তোলার মঞ্চ হবে।

আপনের বাবা মানিক সরকার বলেন পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ার শঙ্কায় আপনের ক্যামেরা নিয়ে দৌড়ঝাঁপের বিষয়টা শুরুতে ভাল লাগেনি। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি সে কাজ করে উপার্জন করছে। লোকে যখন ছেলের কাজের প্রশংসা করে তখন গর্বে বুক ভরে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :