ছুরিকাঘাত খেয়েও বন্ধুকে বাঁচাতে পারলেন না বন্ধু

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : রবিবার ৭ জুলাই, ২০১৯ /

বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাগুরা শহরতলির বাটিকাডাঙ্গা এলাকার মডার্ন মোড়ে লিসান ফকির (১৮) নামের এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

এ সময় লিসানের বন্ধু দিপু গুরুতর আহত হয়েছেন। বন্ধুকে বাঁচাতে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিসান আঠারোখাদা ইউনিয়নের মঠবাড়ি এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি সরকারি হোসেন শহীদ কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কলেজ শেষে মোটরসাইকেলে তিন বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে বের হন লিসান। বাটিকাডাঙ্গা এলাকার শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে বুকে ও পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ওই গ্রামের টিপু মিয়ার ছেলে সোহেল।

এ সময় বাধা দিতে গেলে বন্ধু দিপুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে গুরুতর আহত হন দিপু। ঘটনার পরপর তাদের মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুর দেড়টার দিকে লিসানের মৃত্যু হয়। লিসানের ওপর হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ বা এলাকাবাসী সঠিক কোনো ধারণা দিতে পারেনি। তবে হামলাকারী সোহেল ও তার পরিবারের সঙ্গে অপরাধ জগতের সংশ্লিষ্টতার অনেক তথ্য জানা গেছে।

আহত দিপু জানান, আমরা তিন বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে শিবরামপুর মডার্ন মোড় এলাকায় ঘুরতে যাই। এ সময় স্থানীয় এক যুবক আমাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লিসানের পেটে ছুরিকাঘাত করে ওই যুবক। লিসানকে বাঁচাতে গেলে ওই যুবক আমাকেও ছুরি দিয়ে পিঠের ডান পাশে আঘাত করে। এ সময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে লিসান ও আমাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা লিসানকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেলের বাবা টিপু এবং চাচা লিপু অতীতে যশোরে বসবাস করতেন। সেখানে বিভিন্ন অপরাধ কর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তারা। যে কারণে ১৫ বছর আগে তারা সেখান থেকে লুকিয়ে মাগুরা চলে আসেন। বাড়ি করে বসবাস করছিলেন শিবরাপুর গ্রামেই। কিন্তু এখানেও পরিবারটি নানা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। প্রায়ই বিভিন্ন থানা থেকে পুলিশ তাদের পরিবারের কাউকে না কাউকে আটক করে নিয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাগুরা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপর পুলিশের সবকটি ইউনিটকে একটিভ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীকে ধরতে শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রতিটি পয়েন্ট সিল করে দেয়া হয়েছে। শিগগিরই খুনিকে গ্রেফতার করব আমরা।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :