ছেঁড়া কাঁথার বিছানায় শিকলবন্দি আরশাদের ১২ বছর!

প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২০

খোলা ঘরে ছেঁড়া দুই কাঁথার বিছানায় ১২ বছর ধরে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছে আরশাদ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে বছরের পর বছর বন্দিজীবন যাপন করছেন এ যুবক। পরিবারের আর্থিক দীনতার কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন আরশাদ মিয়ার সুচিকিৎসাও করা যাচ্ছে না। তাঁদের ভিটামাটি ছাড়া নিজস্ব কোনো জমি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজ বাড়ির একটি টিনের ঘরে মাঝখানে একটি পাকা পিলারের সঙ্গে আরশাদ মিয়ার ডান পা শিকল দিয়ে বাঁধা। কনকনে এ শীতের মধ্যে মেঝেতে কিছু খড় ও ছেঁড়া দু’টি কাঁথার বিছানায় তিনি বসে আছেন। খাওয়া-দাওয়া, পশ্রাব-পায়খানা, ঘুম সবই হয় এখানে।

জানা যায়, উপজেলায় নারান্দী ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের ছেলে আরশাদ মিয়া। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। আরশাদ মিয়া অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। তবে মাঝে মধ্যে পাগলামী করতেন। এ কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিয়ে করানো হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর আরশাদ মিয়া সম্পূর্ণ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ফলে বউ তাকে ছেড়ে চলে যায়। অসুস্থতা চরম আকার ধারণ করলে তাকে ওই ঘরে শিকলবন্দি করে রাখা হয়।

আরশাদ মিয়ার বয়োবৃদ্ধ মা জাহেরা খাতুন জানান, পার্শ্ববর্তী দুলালপুর এলাকায় তাকে ১৫ দিন থেকে কবিরাজী চিকিৎসা দেয়ার পর কিছুদিন ভাল ছিল। পরে আবারও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এরপর কিশোরগঞ্জ নিয়ে একজন ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু ভালো হয়নি। সংসারের অভাব অনটনের কারণে উন্নত চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য এলাকার অনেক লোকের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু কারও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তার খোঁজখবর নিতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ওই বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। তিনি খোঁজখবর নিয়ে এসেছেন। তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।