জাতির জনকের সমাধি সৌধ দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : রবিবার ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ /

মশিউর রহমান কাউসার :
গোপালগঞ্জের সবুজ বনানী পরিবেষ্টিত টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ দর্শনীয় স্থানে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এখানে আসেন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত আদি বাড়ি ও তার সমাধি দেখার জন্য।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাইগার নদী পাড়ে প্রায় ৪৮ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয় জাতির জনকের সমাধি সৌধ। লাল সিরামিকের ইট আর সাদা কালো টাইলস দিয়ে গ্রীক স্থাপত্য শিল্পে নির্মিত সমাধি সৌধে ফুটে উঠেছে বেদনার চিত্র। সমাধি সৌধের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ছবি। স্থাপন করা হয়েছ পাঠাগার, গবেষনা কেন্দ্র, জাদুঘর, প্রদর্শনী হল, মসজিদ, পাবলিক প্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, মুক্তমঞ্চ, বকুল তলা চত্বর, ফুলের বাগান, কৃত্রিম পাহাড় প্রভৃতি। সমাধি সৌধের প্রায় কোয়াটার কি.মি দূরে স্থাপন করা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামগার। শিশুদের বিনোদনের জন্য এর পাশে স্থাপন করা হয়েছে শেখ রাসেল শিশু পার্ক। রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিনামুল্যে গাড়ি পার্কিং এর সুবিধা। মনোরম দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে সাজানো হয়েছে জাতির জনকের সমাধি সৌধ এলাকা।
সমাধি সৌধের পাশে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর অর্ধভগ্ন আদির বাড়ির স্মৃতি চিহ্ন। এগুলো সংরক্ষন করে রাখা হয়েছে। রয়েছে ছোট তালাব (পুকুর) ও বড় তালাব, যেখানে বঙ্গবন্ধু গোসল করতেন। পাশে রয়েছে খেলার মাঠ, যেখানে বঙ্গবন্ধু শৈশবে খেলা করতেন। জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ বহনকারী কফিন। সংরক্ষন করে রাখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু পিতা শেখ লুৎফর রহমানের মহদেহ বহনকারী কফিনটিও। এছাড়া প্রদর্শণী হলে টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে ঐতিহাসিক অসংখ্য ছবি।
স্থানীয় লোকজন জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও শাহাদাত বার্ষিকীসহ প্রতি শুক্রবার সমাধিতে দর্শনার্থীদের আগমন বেশী আরো বেশি থাকে। দর্শনার্থীদের সেবাদানের ক্ষেত্রে তারা সব সময় আন্তরিক থাকেন। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের টুঙ্গিপাড়ায় হোটেল মধুমতিতে থাকার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এ হোটেলটি পরিচালনা করে থাকে।
বন্ধন শরীরচর্চা সংগঠনের উদ্যোগে জাতির জনকের সমাধি পরিদর্শন :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের স্থানীয় শরীরচর্চা সংগঠন বন্ধন’র উদ্যোগে শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারী) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ পরিদর্শন করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিপি মাহফূজ উল্লাহ’র নেতৃত্বে এ সফরের তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি এডভোকেট জসীম উদ্দিন, আবুল মনসুর, অর্থ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ঈশা খান, সদস্য আব্দুল মুন্নাফ। এতে সফরসঙ্গী ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রহিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোনেন, ময়মনসিংহ মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহবায়ক তানজীর আহমেদ রাজীব, কেন্দ্রিয় যুবলীগের সদস্য আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলামসহ বন্ধন শরীর চর্চা সংগঠনের কর্মকর্তা/সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও সুশীল সমাজের লোকজন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধুর সমাধি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় গৌরীপুর থেকে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে তাদের বাস ছাড়েন। পদ্মা নদীর মাওহা ফেরী ঘাট হয়ে প্রায় ২৮০ কি.মি. পথ অতিক্রম করে শুক্রবার সকাল ১০ টায় তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছেন। প্রথমে ওই স্থানে দর্শনার্থীদের ভীড় কম থাকলেও বেলা বাড়তেই উপচে পড়া ভীড় দেখা দেয়। পরে তাঁরা জাতির জনকের সমাধিস্থলে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাত করেন এবং সমাধিস্থল সংলগ্ন মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহিম জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি দেখার আগ্রহ বহুদিনের। সময় ও সুযোগের অভাবে তা দেখা হয়নি। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল গিয়ে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।
ময়মনসিংহ মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহবায়ক তানজীর আহমেদ রাজীব জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জানার আগ্রহ নতুন প্রজন্মের নিকট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারনে জাতির জনকের সমাধি সৌধ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে সমাধি স্থলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভীড় আরো বৃদ্ধি পাবে।

আপনার মতামত লিখুন :