জাল খাজনা রশিদসহ প্রতারককে হাতে-নাতে ধরে ছেড়ে দিলেন সাব রেজিস্ট্রার !

মশিউর রহমান কাউসার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ /

জাল খাজনা রশিদ তৈরী করে জমির দলিল রেজিস্ট্রির সময় প্রতারক দলিল লিখককে হাতে-নাতে ধরে ৩ ঘন্টা আটক করে রাখার পর কোন আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে সাব রেজিস্ট্্রারের বিরুদ্ধে। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহের গৌরীপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে এ ঘটনাটি ঘটে। প্রতারক যুবক সজিবের বাড়ি গৌরীপুর পৌরসভার সতিষা এলাকায়। তিনি বরখাস্ত হওয়া একজন দলিল লিখক। এদিকে সাব রেজিস্ট্রারের এমন কান্ডে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, রবিবার দুপুরে দলিল লিখক (সনদ নং-৪৩৬৩) আব্বাছ আলী সরকারের স্বাক্ষরিত একটি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য স্থানীয় সতিষা গ্রামের বরখাস্ত হওয়া দলিল লিখক সজিব সাব রেজিস্ট্রি অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জাল খাজনার পরিশোধের একটি রশিদ জমা দেন। দলিলের কাগজপত্র দেখার সময় সাব রেজিস্ট্রারের কাছে এ জালিয়াতির ঘটনাটি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক প্রতারক যুবককে রেজিস্টার অফিসের একটি কক্ষে আটক করে রাখা হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা আটক করে রাখার পর কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করেই এদিন বিকেলে ওই যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে প্রতারক যুবককের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় সাব রেজিস্ট্রারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক দলিল লিখক জানান, জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দলিল লিখক সজিবকে ইতিপূর্বে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বছর শেষের দিকে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি জালিয়াতির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেই মামলায় সজিব ৩ মাস কারাভোগ করেন। বর্তমানে এ মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে গৌরীপুরে সাব রেজিস্ট্রার অফিসের আম্বিয়া খাতুন নামে এক কর্মচারী ও কতিপয় অসাধু দলিল লিখকদের সহযোগিতায় জাল কাগজপত্র তৈরীর মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রির কাজ করে আসছিলেন তিনি। অবশেষে রবিবার এ ঘটনাটি ধরা পড়লে সকলের টনক নড়ে।

 

তারা অভিযোগ করে বলেন, জাল খাজনার রশিদসহ ধরা পড়ার পর মোটা অংকের টাকার রফাদফার মাধ্যমে কোন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন না করে সজিবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলিল লিখক আব্বাছ আলী সরকার বলেন, ‘আমি সরল বিশ^াসে সজিবের প্ররোচনায় দলিলে স্বাক্ষর করেছিলাম। দলিলের কাগজপত্রের সঙ্গে জাল খাজনার রশিদটি তখন তিনি শনাক্ত করতে পারেনি।’
এদিকে এ জালিয়াতির ঘটনার খবর শুনে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সাব রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন তিনি।

 

সাব রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী আম্বিয়া খাতুন জানান, সজিবের সাথে তার কোন পূর্ব পরিচয় নেই। তাকে কোন কাজে সহযোগিতা করেননি তিনি।

 

ঘটনার পরদিন গৌরীপুর পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা দিপক কুমারকে জাল খাজনার রশিদ বিষয়ে অবগত করা হলে তিনি জানান, সাব রেজিস্ট্রি অফিসে খাজনা পরিশোধের যে রশিদটি জমা করা হয়েছে তা যাচাই করে দেখা গেছে এরকম কোন রেকর্ড ভূমি অফিসে নেই। এটি একটি জাল খাজনা পরিশোধের রশিদ। তাৎক্ষণিকভাবে জানালে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :