জোড়াতালির সেতু দিয়ে চলে চার জেলার লক্ষাধিক যানবাহন

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ /

ময়মনসিংহ নগরীর চায়না মোড় এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ মটকি ভাংগা সেতুর উপর দিয়ে প্রতিদিন চারটি জেলার প্রায় লক্ষাধিক যানবাহন চলাচল করছে। দীর্ঘদিন যাবৎ জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে সেতুটি। সেতুটি পার হলেই চালক-যাত্রীরা ম,নে করেন এ দফা বেঁচে গেছেন।

ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মিত শম্ভুগঞ্জ ব্রীজ পার হলেই কিছুদূর এগোতেই চায়না মোড় মটকি ভাংগা ব্রীজ। পাকিস্তান আমলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাশেই একটি খালের উপর নির্মিত এই ব্রীজটি মটকিভাংগা পুল নামে পরিচিত। এই সেতু দিয়ে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রায় লক্ষাধিক যানবাহন চলাচলের একমাত্র সেতু এটি। সব ধরনের যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচল করে।

প্রায় দুই বছর আগে সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটিতে তিনটি স্থানে ইস্পাতের সীট দিয়ে মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু হিসেবে চিহ্নিত করে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো ব্রীজটি পূনঃনির্মাণ হয়নি।

প্রায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হওয়া ট্রাক ড্রাইবার সফিকুল ইসলামের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, যখন ট্রাকে মাল বোঝাই করে আসি এই ব্রীজটির পার হওয়ার সময় মনে অনেক ভয় লাগে। পার হয়ে গেলে মনে হয় বেঁচে গেলাম।

রফিক নামে এক বাসযাত্রী বলেন, এই সেতুটি দীর্ঘদিন যাবৎ জোড়াতালি দিয়ে চলছে। আমরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছি। আমরা চাই এই সেতুটি যেন খুব দ্রুত নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় মোবারক হোসেন বলেন, এই সেতু দিয়ে পায়ে হেটে গেলেও ভয় লাগে কখন যেন ভেঙ্গে পড়ে।

সেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগ এর আহবায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু বলেন, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা সবাই সচেতন হয়ে যাই। বিভিন্ন ভাবে নিজদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি কিন্তু দুর্ঘটনার আগে আমাদের হুঁশ থাকে না। এই সেতুটি দীর্ঘদিন আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে আমরা এই সেতুটি ব্যবহার করছি। আমরা চাই কোন দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন সেতুটি পূনঃনির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, চায়না মোড় থেকে রগুরামপুর চারলেন প্রকল্পে এই সেতুটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে পাশ হয়েছে। খুব শীগ্রই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :