আমরাই পারি খুকীকে বাঁচিয়ে রাখতে, প্রয়োজন একটু সহানুভূতি

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : রবিবার ৭ এপ্রিল, ২০১৯ /

গৌরীপুর নিউজ ডেস্ক : মায়ের গহনা, বাবার চাষের জমি সবই শেষ। মেয়েকে বাঁচাতে রাজধানীর হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটতে ছুটতে এখন ক্লান্ত তিনি। বন্ধ হয়ে গেছে বড় ভাইয়ের পড়াশুনা, অনার্সের ফরম নিয়েও ভর্তি হতে পারেনি খুকী! অর্থাভাবে হাসপাতালের বেডে মিলছে না ঠাঁই। ঘরের বিছানায়ও জুটচ্ছে না তিন বেলার ওষুধ। অসহায় বাবা-মা এখন মেয়েকে বাঁচাতে ব্যাকুল আর্তনাদ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে প্রিয় বান্ধুবীকে বাঁচানোর আকুতি জানালো কলেজের দেড় শতাধিক বান্ধুবী। খুকী’কে বাঁচাতে তার বান্ধবী হেনা’র আবদার ‘আমরাই পারি খুকীকে বাঁচিয়ে রাখতে, আবারও কলেজে ফিরিয়ে আনতে’ প্রয়োজন একটু সহানুভূতি।

ফুটফুটে মেয়ে খুকী; যার পুরো নাম কামরুন নাহার। বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের তেরশিরা গ্রামে। বাবা আবুল কাসেম একজন কৃষক, মা মিনা আর বেগম একজন গৃহিণী।

২০১৪ সাল। দশম শ্রেণির ছাত্রী। বই নিয়ে স্কুলের যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এ সময় শরীরটা গরম হতে থাকে। মা হাত দিয়ে দেখেন জ্বরে মেয়ের শরীরটা কাঁপছে। দ্রুত নিয়ে যান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে ৭দিন চিকিৎসা শেষে জ্বরের উন্নতি হয়নি। বরং দিনদিন সতেজ মেয়েটি নিস্তেজ হতে থাকে। এরপর ছুটে যান রাজধানী শহর ঢাকায়। শরাপন্ন হন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. লুৎফুল কবীরের। তাঁর পরামর্শে সেই হাসপাতালে ভর্তি হয় খুকী।

জ্বর সাড়ে, দ্বিগুন তাপে আবারও আসে। এভাবেই চলতে থাকে। মেয়ের কান্না আর আর্তনাদে ভেঙ্গে পড়েন মা-বাবা। বোনের এমন অসুস্থ্যের কারণে একমাত্র ভাই ওমর ফারুকের দেয়া হয়নি এইচএসসি পরীক্ষা।

খুকী’র চিকিৎসা খরচ মিটাতে চাষের জমি বিক্রি, এরপর মায়ের গহনা বেচে দেন। বাড়ির চারপাশের গাছপালাও সাবাড়। এবার রোগ নির্ণয় হলো। রোগের সংক্ষিপ্ত নাম এসএলই। যার পুরো নাম সিস্টেমিক লুপাস ইরিথম্যাটোসাস । এ রোগ সাধারণত ইউরোপ-আমেরিকা অঞ্চলে দেখা যায়। এ রোগের আক্রমণে খুকী’র মাথার চুল উঠে যায়। মুখের ভিতরে ঘাঁ (ক্যান্সার) দেখা দেয়। পুরো শরীর নিস্তেজ হতে থাকে।

এ রোগ নিয়ে ২০১৫সালে লালখান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৭সালে ঈশ্বরগঞ্জ মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে খুকী।

ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে অনার্সের ফরম উত্তোলনের পর জীবনযুদ্ধের খুকী আর কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ধীরেধীরে পুরো পরিবার ফুটফুটে খুকী’র অস্থির হয়ে যায়। এবার বিক্রি করা হয় গোয়ালের গরু, মায়ের কানের দুল, গলার চেইন, খুকী’র গলার চেইন। এভাবেই খুকীতে বাঁচাতে এক কৃষক যুদ্ধ করে যাচ্ছেন।

ভাই ওমর ফারুক বোনকে বাঁচাতে ঢাকায় ইলেকট্টিশিয়ানের কাজে যোগ দেন। ইচ্ছে ছিলো বিএনসিসি’র মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিবেন। বিএনসিসি গৌরীপুর সরকারি কলেজ কন্টিনজেন্টে অংশ নিয়েও বোনের চিকিৎসার খরচ যোগাতে আর লেখাপড়া বা কোন ইচ্ছা পূরণই হয়নি।
২০১৯ এখন খুকীর কিডনীও আক্রান্ত।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ ও পরিবারের ইচ্ছা খুকীকে ভারতে নিয়ে গেলেই সুস্থ্য হয়ে যাবে। নেই সেই আর্থিক সংস্থান। ঢাকা বা ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেখে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। অর্থাভাবেই খুকী’কে নিয়ে এসেছেন বাড়িতে। যেখানে উচ্চ চিকিৎসার জন্য বিদেশের যাওয়ার কথা, সেখানে খুকী নিজ বাড়িতে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনী রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ জাভেদ হাসান পরাগের তত্ত্বাবধানে চলছে খুকী’র চিকিৎসা।

কৃষক আবুল কাসেম জানান, তার মেয়ের প্রতিমাসে প্রায় ২৫হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এখন আর মেয়েকে ওষুধ খাওয়ানোর মতো সামর্থ্য নেই। তিনি এখন নিঃস্ব।

প্রিয় বান্ধবীকে বাঁচাতে আঞ্জুমান আরা আক্তার হেনা বলেন, খুকীও আমাদের সঙ্গে অনার্সে পড়ার কথা ছিলো। অথচ আজ সে মৃত্যুর প্রহর গুনচ্ছে। একটু সহানুভূতিই পারে ওকে আবারও মলিন মুখটায় হাসি ফুটাতে। প্লিজ ওকে বাঁচান, প্লিজ ওর কথা একটু লিখুন, বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বান্ধবী হেনা।

হেনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারনে তার বাবার মুঠোফোন ০১৯২০-৯৬২৫৭৫। ডাচবাংলা ব্যাংক এক্উান্ট খুকী’র ০১৯৬৫-৮৬৬০৫৮৪, বিকাশ (ওমর ফারুক) ০১৭৬০-০০২৩০০।

আপনার মতামত লিখুন :