তারাকান্দায় হিন্দু প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে মুসলিম গৃহবধু

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শুক্রবার ২৪ জানুয়ারী, ২০২০ /

টাঙ্গাইল থেকে সাথী আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধু প্রেমের টানে চলে এসেছেন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার প্রেমিক তপন সরকার (২৬) নামে এক যুবকের বাড়িতে। সাথী আক্তার টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ১ সন্তানের জননী। তপন সরকার ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্র সরকারের ছেলে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় সময় তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্র সরকারের ছেলে তপন সরকারের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে উঠে বসেন। পরে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী) বিকালে পুলিশ ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে থানায় নুয়ে আসেন।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা ২ জন সাভারের জিরাবো এলাকায় চাকরীর সুবাদে পরিচয় ঘটে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে ভালবাসায় রূপ নেয় তাদের সম্পর্ক । ধীরে ধীরে দু’জন দু’জনকে আরো কাছে পাবার জন্য মনস্থির করে তারা মন দেয়া নেয়া শুরু করে।

এক পর্যায়ে ছেলে প্রেমিক তপন চন্দ্র সরকার নারী প্রেমিকাকে সারা জীবনের জন্য আপন করে স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে কাছে থাকতে উভয়েই প্রায় সাড়ে ৩ বছর বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী স্ত্রী হিসেবে জীবন যাপন শুরু করে। প্রেমিক তপন চন্দ্র সরকার মুসলমান হবে বলে আশ্বাস দিয়ে মেয়ের চাকরীর প্রায় লক্ষাধিক নগদ টাকা, স্বর্নালংকার, দামী মোবাইল সেট, পায়ের নুপুর সহ সবকিছুই আত্নসাৎ করে । হঠাৎ করে সাথীকে কিছু না জানিয়ে প্রেমিক তপন তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে নানা জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে মিথ্যা বিয়ের প্রলোভনে মুসলমান হওয়ার কথা বলে সাড়ে ৩ বছর ধর্ষন করে আসছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী এই প্রেমিকা।

কোন উপায় খোঁজে না পেয়ে সাথী আক্তার তারাকান্দার মাধবপুর প্রেমিক তপন চন্দ্র সরকারের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনসনে দিন যাপন করে চলেছেন। প্রেমিকাকে বাড়ীতে দেখে তপনের বাবা গাঁ ঢাকা দিয়েছে। তপনের মা বাড়ীর উঠুনে বসে কেবল ছেলে তপনের চিন্তায় প্রহর গুনছেন।

সাথী আক্তার বলেন, আমাকে তপন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করেছে। কিছুদিন পূর্বে আমাকে সে তাদের বাড়ীতে এনেছিল বিষয়টি তার বাবা নিতাই চন্দ্র সরকার জানতে পেরে আমাকে শারিরীক নির্যাতন করে। আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অনেক আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে রক্ত ঝরিয়ে আমাকে বিদায় করে দেয়। আমি আমার দাবী আদায়ে এই বাড়িতে আত্মহত্যা করবো তবু এখান থেকে যাবোনা।

তারাকান্দা থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে সাথী আক্তারকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে কোন মামলা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাথী আক্তারের আত্মীয়দের খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :