নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং, দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-বাইরে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেকপোস্টের পাশে একটি ছাত্রীবাসে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফারহানা রহমান লিয়োনাকে ম্যানার শেখানোর নামে মাত্রাতিরিক্ত র‌্যাগিং করায় মানসিক চাপে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যান। পরে তাকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

একাধিকবার র‌্যাগিংয়ের শিকার কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান গত বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞান হয়ে পড়ায় ও শরীরে খিচুনি শুরু হলে তাকেও প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। তিনি এখন হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

চিকিৎসারত শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়েছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা শেখ সুজন আলী, সহকারী প্রক্টর আল জাবির। র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সকল ব্যয় বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক নবীন এক শিক্ষার্থী জানান, র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় ভীত হয়ে ক্যাম্পাসে ক্লাস করতে আসছে না অনেক নবীন শিক্ষার্থী। আবার এ র‌্যাগিংয়ের ভয়ে অনেকেই ছাত্রবাস ছেড়ে বাড়িতেও চলে গেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি পর্বের নামে র‌্যাগ বা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবিতে রবিবার সকাল ১০টায় থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হবে।

শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আল জাবির জানান, আমি শিক্ষার্থীদের কথা বলব। আমি আমার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে আমার দায়িত্বের কি দরকার। শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে এটি স্পষ্ট যে তার উপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এতে সে ভীত হয়ে পড়েছে। এই মানসিক নির্যাতন যারা করেছে তাদের বিচার না করতে পারলে আমি আমার সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করব।

ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী জানান, আমরা তদন্ত না করে কিছু বলতে পারছি না। আসলে কি কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে। তবে আমরা ধারণা করতে পারি তারা হাল্কা র‌্যাগিংয়ের শিকার হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এন্টি র‌্যাগিং কমিটি রয়েছে, আমি এই কমিটির আহ্বায়ক আমরা আগামী রবিবারে তদন্ত করে এটি বের করব কেনো এমন হয়েছে।