নেত্রকোণায় নানা অনিয়মে চলছে এতিমখানা, সরকারি বরাদ্দ লুটপাট

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বুধবার ১০ জুলাই, ২০১৯ /

নেত্রকোণা জেলায় ১০টি উপজেলায় বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক এতিমখানা। এগুলোর উপরে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে মনগড়া নিয়মে চলছে এসব এতিমখানা।

সরকারি অনুদানের অধিকাংশ টাকাই লুটপাট হচ্ছে। নেত্রকোণা জেলায় বেসরকারি এসব এতিমখানার মধ্যে ৪০টি এতিমখানা সরকারিভাবে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দ দিয়ে পাচ্ছে।

নেত্রকোণা সদরে ৯টি, খালিয়াজুরীতে ৩টি, মদনে ৭টি, বারহাট্টায় ৪টি, দূর্গাপরে ৫টি, কলমাকান্দায় ৬টি, আটপাড়ায় ১টি, কেন্দুয়ায় ২টি, পূর্বধলায় ২টি এবং মোহনগঞ্জে ১টি।

সরকারিভাবে এতিমের সংখ্যা ৯৭৯ জন। প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে সরকারি বরাদ্দ পায় মোট ৫৮ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা। অধিকাংশ এতিমখানায় এতিম শিশুদের জন্য নেই পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা। নেই রান্না-বান্নার সুব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সম্মত খাবার। নেই পয়নিস্কাশনের সুব্যবস্থা। মাদ্রাসা ও হাফেজখানার পাশ্বেই এতিমখানার সাইন বোর্ড লাগিয়ে সরকারি বরাদ্দ তোলে নিচ্ছে।

সরজমিনের সীমান্তবর্তী দূর্গাপুর উপজেলার উপজাতী এতিম শিশুদের জন্যে গড়ে উঠা এতেল সেবা সদনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ১০-১২ জন শিশু রয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে তারা ২৬ জন শিশুর বরাদ্দ নিচ্ছেন। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ২৬ জন শিশুর বিপরীতে ৫২ জন শিশুর লালন পালনের বিধান রয়েছে। শিশুদের থাকার বিছানা নেই। নিজেরা খাবারের ব্যবস্থা করে খায় এবং প্রতিমাসে সরকারি নিয়ম না থাকলেও এতিমখানার কর্তৃপক্ষকে মাসে ৫০০/-১০০০/- টাকা ফি দিতে হচ্ছে। তারা জানে না যে এটি সরকারি অনুদান প্রাপ্ত এতিমখানা।

সরজমিনে বারহাট্টা উপজেলার মিয়া হোসেন এতিমখানা গিয়ে দেখা যায় মাদ্রাসা ও পাঞ্জাখানার সাথে এতিখানার সাইনবোর্ড লাগিয়ে সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করে বছরের পর বছর চলছে। ৩-৪ জন এতিম থাকলেও এতিমদের লালনপালন করছে বিত্তশালীদের বাড়িতে লজিং আকারে।

এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: আলাল উদ্দিন জানান প্রতি বছর ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দের পূর্বেই উপজেলা কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয় উনারা সরজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেন। তার প্রেক্ষিতেই ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দের অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরপরও কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা কোন অনিয়মের সাথে জড়িত থাকেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এলাকার সচেতন মানুষ এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের দুদকের মাধ্যমে বিচার আওতায় আনার দারি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :