নান্দাইলে আসামি ধরায় গ্রামপুলিশকে পেটালেন চেয়ারম্যান

উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : রবিবার ২ জুন, ২০১৯ /

আগে থেকে না জানিয়ে পুলিশ মাদক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করায় এক গ্রামপুলিশকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের হাটশিরা বাজারে মারধরের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় নির্যাতিত গ্রামপুলিশ রঞ্জন বিশ্বাস (৪০) বিচার চেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। রঞ্জন ওই ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা।

রঞ্জন জানান, গত শুক্রবার দুপুরে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসানাত ভুইয়া মিন্টুর বাড়ির সামনে অবস্থিত হাটশিরা বাজারে ঈদের ভিজিএফের বরাদ্দ বিতরণস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় সিরাজুল ইসলাম নামের পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেন নান্দাইল মডেল থানার সহ-উপপরিদর্শক (এএসআই) দিলীপ কুমার সাহা। তখন সিরাজুল ইসলাম ভিজিএফ বরাদ্দ নিতে এসেছিলেন। পরে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ঢাকার রমনা থানার মাদক মামলার ফেরারি আসামি।

রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, পুলিশ আসামি নিয়ে চলে যাওয়ার সময় খবর পেয়ে তিনি অন্য এক গ্রামপুলিশকে নিয়ে বিষয়টি দেখতে যান। এ সময় চাল বিতরণও শেষ হয়ে যায়। তখন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত ভূঁইয়া মিন্টু হাটশিরা মধ্যবাজারে অবস্থিত একটি কাপড়ের দোকানে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। চেয়ারম্যান খবর পেয়ে থানার সহ-উপপরিদর্শক (এএসআই) দিলীপ কুমারকে মোবাইলে উচ্চ স্বরে কথা বলে জানতে চান কেন তাঁর নিজের এলাকা থেকে কোনো কথা ছাড়াই আসামি ধরা হলো। পরে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দিয়ে তেড়ে গিয়ে গ্রামপুলিশ রঞ্জনকে লাথি ও কিল-ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।

জানতে চাইলে খারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামরুল হাসনাত ভূঁইয়া মিন্টু বলেন, ‘আপনার বাড়িতে যদি একজন লোককে দাওয়াত করে আনার পর পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তা কি মানা যায়? এটা আমাকেই এক ধরনের অপমান করা হলো। এই অবস্থায় ওই গ্রামপুলিশকে একটু ধমক দেওয়া হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

আপনার মতামত লিখুন :