নিহত তিথীর বাড়িতে শোকের মাতম, থামছেই না মায়ের কান্না

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ট্রাকচাপায় নিহত স্কুলছাত্রী তিথি পালের (১২) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মেয়ের মৃত্যু শোকে পাগলপ্রায় মায়ের কান্না থামাতে পারছেন না স্বজনরা। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ট্রাক চালক ও হেলপারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

তিথী পালের বাড়ি গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার মহল্লায়। তার বাবা রঞ্জন পাল একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। মা রীতা পাল গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে তিথি ছোট। তার বড় বোন রাত্রি পাল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

তিথি গৌরীপুর পাইলট বালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে বাড়ি থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে বালুবাহী ট্রাকচাপায় নিহত হয় সে। এসময় আহত হয় তার সহপাঠী রুপা চক্রবর্তী।

সোমবার বিকালে মধ্যবাজার মহল্লায় গিয়ে দেখা যায় বাড়ির সামনে রাখা তিথীর মরদেহ ঘিরে লোকজনের ভিড়। মেয়ে হারানোর শোকে কাঁদছেন তিথীর মা রীতা পাল। তিনি কাঁদছেন আর কিছুক্ষণ পরপর মূর্ছা যাচ্ছেন।

রীতা পাল বলেন, ‘প্রতিদিন আমি মেয়েকে কোচিংয়ে নিয়ে যেতাম। আজ আমি ওকে নিয়ে যেতে পারিনি। মেয়ে যখন ঘর থেকে বের হয়ে তখন বলেছিলাম মা সাবধানে যেও, কিন্তু কে জানতো এই যাওয়াই ওর শেষ যাওয়া।’

তিথির বাবা রঞ্জন পাল বলেন, ‘মেয়েটার পড়ালেখা করে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নটাই লালন করছিলাম। কিন্তু ঘাতক ট্রাক সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। ঘাতক ট্রাক আমার সব কেড়ে নিল। আমি এর বিচার চাই।

প্রতিবেশীরা জানান, তিথি গৌরীপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে মেধা তালিকায় উপজেলা পঞ্চম হয়েছিল। এরপর সে পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সে ভালো ছবি আঁকতে পারতো। পারদর্শী ছিল সঙ্গীতেও। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে ব্যথিত পরিবারের পাশাপাশি সবাই।

প্রবীণ সাংবাদিক সুপ্রিয় ধর বাচ্চু বলেন, ‘তিথির মৃত্যুতে একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে। ওর মায়ের কান্না কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। মেয়ে হারা পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। ঘাতক ট্রাক চালক ও হেলপারের যেন দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় সরকারের কাছে এটাই দাবি।’

সোমবার সন্ধ্যায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য তিথির মরদেহ গৌরীপুর পৌর শশ্মানে নেওয়া হয়।

ভিডিও