নীল কাগজে লিখে বিয়ে, এসআই’র বিরুদ্ধে নারীর ধর্ষণ মামলা

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২০ /

শেরপুরের নকলা থানার মো. সবুর উদ্দিন নামে এক এসআই এর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ২২ বছর বয়সী এক নারী মামলা করেছেন।

জানা গেছে, মো. সবুর উদ্দিন নেত্রকোনার পূর্বধলা শ্যামগঞ্জ উত্তর বাজার এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। অভিযুক্ত এসআই মো. সবুর উদ্দিন কয়েক মাস ধরে শেরপুর জেলার নকলা থানার এসআই হিসেবে কর্মরত আছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আখতারুজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পিবিআইকে আদেশ দিয়েছে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোকলেছুর রহমান আকন্দ জানান, ২০১৭ সালে নালিতাবাড়ী থানায় ওই বাদীর করা একটি শ্লীলতাহানির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন নালিতাবাড়ী থানায় কর্মরত এসআই সবুর। মামলার তদন্ত করার সুবাধে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘনিষ্ঠতার একপর্যায়ে বাদীর স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। অভিযুক্ত এ পুলিশ কর্মকর্তা অপরিচিত দুজন লোক নিয়ে নীল কাগজে লেখালেখি করে ভিকটিমের সঙ্গে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান।

পরে ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখে অভিযুক্ত সবুর ওই সাজানো স্ত্রীকে নিয়ে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তর গড়কান্দা আনছার ক্যাম্প সংলগ্ন এক বাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস করতে থাকেন। পরে সবুর নকলায় থানায় বদলি হয়ে গেলে চলতি মাসের এক তারিখে নকলা থানায় গিয়ে ভরণ-পোষণ দাবি করে ওই নারী। এরপর এসআই সবুর ভিকটিমকে বিবাহ করে নাই বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

ভিকটিম নারীর দাবি, এসআই সবুর উদ্দিন নকল বিবাহের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে।

পিবিআইয়ের (জামালপুর-শেরপুর) দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর (এডমিন) সৈয়দ মইনুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এখনো আদালত হতে কোনো কাগজ পায়নি। অভিযোগের কাগজ হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

নকলা থানার ওসি (তদন্ত) হাসেম বলেন, কারো ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার পুলিশ বিভাগ নেবে না।

আপনার মতামত লিখুন :