নেত্রকোণায় ফল ও সবজির নির্যাস দিয়ে তৈরি হচ্ছে পোশাক ও নকশী কাঁথা

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : মঙ্গলবার ৪ জুন, ২০১৯ /

সর্ম্পূণ নিজস্ব চিন্তা ধারায় মৌসুমী ফল ফুল পাতা ও শাক সবজির নির্যাস দিয়ে রং তৈরী করে তা বিভিন্ন পোশাক ও নকশী কাঁথা কারুকাজ করে এলাকার ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন নেত্রকোণার এক প্রতিবন্ধী দম্পতি। তার সাথে শিক্ষার্থী সহ গ্রামের নারীরা কাজ করে বাড়তি আয়ের করছে। এসব কাজ করে অনেকেরই সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা।

নেত্রকোণার পৌরশহরের বড়পুকুরপাড় এলাকার অতনু পত্রনবীশ ছোটন ৫২ বছর। ৪০ বছর বয়সে ষ্টোক করে প্যারালাইস হয়ে শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে। অতুনু পত্রনিবাসের কাকা ফ্যাশন ডিজাইনার (আর্টিষ্ট) বাদল চক্রর্বতী অতুনু ও তার সংসারের কথা ভেবে নতুন এক আইডিয়া দেন মৌসুমী ফল ফুল ও সাক-সবজির নির্যাস থেকে রং তৈরি করে পোষাক তৈরির এ থেকে নি ঘরে তার সহধমীনী শিউলী পত্রনবীশ তুলির আঁচড়ে ২০০৮ সালে তার নিজ বাড়িতে সংসারের হাল ধরার জন্য ৫টি থ্রি পিস নিয়ে শুরু হ্যানিক্রাপ্স ব্যবসা। সেই রং বিভিন্ন পোষাকে ব্যবহার করে তৈরি করছেন বাহারী ডিজাইন। আর এসব ডিজাইন করা শাড়ী, ত্রি পিচ, বেটসিট, পাঞ্জাবী, শাট,ও নকশী কাঁথা মন কাড়ছে ক্রেতাদের।

নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন উপজেলার দূর্গাপুর, পূর্বধলা,মদনসহ বিভিন্ন গ্রামের ৬০জন নারীদের কর্মমুখী করে তুলছেন এই দম্পতি। তার হাতে ডিজাইনের শাড়ী, ত্রিপিচ, বেটসিট,পাঞ্জাবী,শাট,ও নকশী কাঁথা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সরবরাহ হচ্ছে। তার তৈরী ডিজাইনের চাহিদা রয়েছে। আর তা বিক্রি করে নিজে লাভের মুখ দেখছেন।

নতুন রংয়ের উদ্ভাবক অতনু পত্রনবীশ ছোটন জানান, আমলকী,বাশেঁর পতা, রক্ত জবা,কাচাঁ চা পাতা ,কাঠের গুরা, মাঠি,পান সুপারি, কয়ার ,চুন , কাঠাল, কলার চাল ,কাঁচা কলা,কচু সহ বিভিন্ন রকমের ফল ও ফুল থেকে রং তৈরী করে এলাকার নারীরাও তার সাথে কাজ করে জন প্রিয়তা ও স্বাবলন্বী হয়ে উঠছে। এখন তার একটাই উদ্দ্যেশ্য অবহেলিত নারীদের কর্মমূখী করে বেকারত্ব দূর করা।তিনি জানান র্অথনৈতিক অবস্থা ভাল না থাকায় প্রথম আমার স্ত্রী শিউলী পত্রনবিশ কে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ট্রেনিং দিয়ে ৮০ হাজার টাকা লুন দেযায় আমি কাজ শুরু করি।

তার সহধমীনী শিউলী পত্রনবীশ তুলি জানান, একসময় অলস সময় কাটতো। এখন সংসারের কাজ সেরে নিজে এসব কাজ করছেন। সেই সাথে এলাকার আরো ৬০ জন নারীকে কাজে লাগাতে পেরে খুব ভালো লাগছে তার। ন্যাচারাল কালার দিয়ে পোশাক তৈরী করে আজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পোষাকে চাহিদা তৈরী করেছি। সরকারি ও বেসরকারী কোন সহযোগিতা ফেলে দেশ থেকে দেশের বাহিরেও রপ্তানী করতে পারতাম ।

আপনার মতামত লিখুন :