নেত্রকোনায় অজ্ঞাত রোগী নিয়ে বিপাকে হাসপাতাল

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২০ /

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সাবেক সোনালী ব্যাংক ভবনের সামনে অজ্ঞাত (৫০) এক অসুস্থ ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা হাসপাতালে ভর্তি করান। ওই অজ্ঞাত রোগীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অজ্ঞাত রোগীকে স্যালাইন পুশ করার কিছুক্ষণ পরই তা ছিঁড়ে বিছানা থেকে নেমে মেঝেতে শুয়ে পড়েন। প্রস্রাব ও মলত্যাগ করছেন বিছানায়। কথা বলতে না পারায় পরিচয়ের সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।

রোগীর পাজরের হাঁড়গুলো চামড়ার সঙ্গে মিশে গেছে। আর মাংসের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে পুষ্টিহীনতার কারণে। এ দৃশ্য দেখে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ভীতি। সব মিলিয়ে বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগীকে নিয়ে বিপাকে রয়েছেন তারা। অভিভাবক না থাকায় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে ফোন দিলেও তিনি এখনও স্বশরীরের ভিজিট করেননি।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুজিতা ঘাগড়া বলেন, গত ১৯ তারিখ রাতে অজ্ঞাত ওই রোগীকে ভর্তির পর চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করি। ডাক্তারের নির্দেশনা অনুসারে তার চিকিৎসার জন্য যে ধরনের প্রেসক্রাইব করা আছে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা যখন ক্যানোলা দিয়ে স্যালাইন পুশ করি, কিছুক্ষণ পরেই তা ছিঁড়ে ফেলে দেন তিনি। যতক্ষণ স্যালাইন চলতে থাকে ততক্ষণ আমাদের তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মল-মূত্র বিছানায় ত্যাগ করেন। এতে রোগীর নিজের সমস্যা হয়, সঙ্গে অন্যান্য রোগীদেরও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তারপরও আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হাসিবুর রহমান জানান, ওই রোগীর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। আবার তার পরিচয় ও অভিভাবকের সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ অথবা নেত্রকোনা পাঠানো দরকার। তাকে নিয়ে আমরা খুবই চিন্তায় আছি।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমজাদ হোসেন জানান, গত ১৯ আগস্ট রাত প্রায় ১০টার দিকে দুইজন পথচারী এই অজ্ঞাত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আসার সময় রোগীর প্রচণ্ড জ্বর, শরীরের অবস্থা খুবই দুর্বল এবং ক্রিটিক্যাল পজিশন ছিল। আমরা ভর্তি নিই ও সাধ্যমতো চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করি। শুরু থেকে রোগীর অবস্থার উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা পাঠাতে অভিভাবক দরকার তা আমরা পাচ্ছি না। রোগীর উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। যেটা আমরা এখানে দিতে পারছি না।

আপনার মতামত লিখুন :