পরীক্ষা ও ভ‌র্তি ফি বাতিলের দা‌বি‌তে রয়েল মিডিয়া কলেজের শিক্ষার্থী‌দের ক্ষোভ : সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্য‌মে প্র‌তিবা‌দের ঝড়

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২০

‌দে‌শের এই মহামা‌রী ক‌রোনা ভাইরাস জনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ময়মন‌সিং‌হের র‌য়েল মি‌ডিয়া ক‌লে‌জের শিক্ষা‌র্থি‌দের ইউ‌নিট পরীক্ষায় অংশ গ্রহ‌নের জন্য অনলাই‌নে নো‌টিশ প্রদান করা হ‌য়ে‌ছে। নো‌টি‌শে বলা হ‌য়ে‌ছে , আগামী ১৮ জুন থে‌কে whats App এর মাধ‌মে ইউ‌নিট অনু‌ষ্ঠিত হ‌বে। আর আ‌গে ৬ জুন থে‌কে ১৬ জুন পর্যন্ত অনলাই‌নে ক্লাস চলমান থাক‌বে। শিক্ষার্থী‌দের ফোন করে জানা‌নো হয় যে, ১৬ জু‌নের ম‌ধ্যে ভ‌র্তি ফি ৬১০০/= টাকা (বিজ্ঞান) ও ৫৬০০/=টাকা (মান‌বিক) ক‌লে‌জে এসে জমা দি‌তে হ‌বে। এ‌দি‌কে অনলাই‌নে পরীক্ষা বা‌তিল ও টিউশন ফ্রি মওক‌ফের দাবী‌তে সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্য‌মে শিক্ষার্থীদের প্র‌তিবা‌দের ঝড় বই‌ছে।

শিক্ষার্থীদের দা‌বি করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক চাকরিজীবী। এমতাবস্থায় তা‌দের অ‌ভিবাবকগণ সংসার চালা‌তে হিম‌শিম খা‌চ্ছেন। এ‌দি‌কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের টিউশন ফি পরিশো‌ধের নোটিশ দেওয়ায় তারা আজ দি‌শেহারা প‌ড়ে‌ছেন। এসব নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়।

হঠাৎ অনলাই‌নের মাধ্য‌মে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন ও টিউশন ফির নো‌টিশ জা‌রির পর থে‌কে ক‌লে‌জের ছাত্র ছাত্রীরা সামা‌জিক যোগা‌যোগ মাধ্য‌মে তা‌দের মন্ত‌ব্যের
হুবহুব কিছু অংশ তু‌লে ধরা হ‌লো ;
১) : #একটু_ভাবুন_তো 🤔?
চার পাশে যখন ত্রাণ, দূর্যোগলীন উপহারে নিয়ে সকলেই ব্যাস্থ, অন্য দিকে আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থায় ব্যাবসায়িক কার্যক্রমের প্রকোপ বৃদ্ধি।
গল্পটা একজনের নয় শত শত শিক্ষার্থী’র..
অনলাইন ক্লাস পদ্ধতি সরকারি নির্দেশে সকল প্রতিষ্ঠানে হয়.. কিন্তু পরীক্ষা নিয়ে প্রথম বর্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষে তুলবার কথা আমার জানা নেই কারো সরকারি নোটিশ ভুক্ত প্রমান থাকলে দিবেন।
অনলাইনে ক্লাস নিয়েছেন মহৎ উদ্যোগ কিন্তু Whats app পরীক্ষা নিবেন এর যৌক্তিকতা কতটুকু আমার জানা নেই.. এটা হয়ত অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে এই করোনা কালীন সময়ে।
হ্যা ঠিক তাই ময়মনসিংহ নগরীর ব্যাসরকারি রয়েল কলেজ এর শিক্ষক গন নোটিশে যা লিখেছেন তার বাহিরে গিয়ে লিখেছে তার বাহিরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফোন করো বলেছেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে ৬১০০ টাকা কলেজে এসে জমা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে।
নয়ত পারবে না…
এই করোনা কালীন সময়ে শিক্ষকদের চিন্তাও করতে হবে মানি কিন্তু এই টাকা টা কিসের???
১ বর্ষ থেকে ২ বর্ষে উঠার জন্য এমন কিছু বলা হয়েছে…

নগরীর সনামধন্য একটি কলেজ রয়েল মিডিয়া এখানে অনেক উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানরা পড়াশোনা করেন ঠিক তেমনি আকাশ সমান স্বপ্ন নিয়ে আমার মত নিম্ন মধ্য বিত্ত অথবা নিম্ন বিত্ত ঘরের অনেক সন্তান পড়াশোনা করেন।
যাদের আয়ের উৎস দৈনিক যা প্রায় চার মাস যাবত বন্ধ।

১.আপনাদের যদি হিসাব মতে যদি নূন্যতম ৮০০ জন ছাত্র ছাত্রীও থাকে এভাবে বাধ্যতামূল করেন তাহলে ৮০০×৬১০০=৪,৮৮০,০০০ টাকা..
এই টাকার পরিমান ছাত্রশিক্ষক উভয়ের সমন্বয়ে অর্ধেক করলে হয়, ৮০০×৩০৫০=২,৪৪০,০০০টাকা। অর্ধেক পরিমানের ফলে সেই নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্ন বিত্তবান অভিভাবক রেহাই পেলো আপনারাও করোনা কালিন সময়ে সম্মান নিয়ে চলতে পারলেন।

পয়েন্ট ২..
এই করোনা কালীন সময়ে যারা দূরের শিক্ষার্থী তারা কিভাবে ময়মনসিংহ এসে আপনাদের টাকা জমা দিবে আমার জানা নেই..
আর গণপরিবহন ব্যাবহারে এক প্রকার বাধ্য করার সামিল যেখানে সরকার সারা বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে আর আপনারা??
ওনলাইনে ক্লাস/পরীক্ষা নিতে পারলে বিকাশ, রকেট, নগদ এই সব মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কেন টাকা জমা নিতে পারবেন না??
তাহলে কেমন প্রযুক্তির ব্যাবহার করছেন আপনারা??

আপনারা কি চান গণপরিবহনে যাতায়াত করতে গিয়ে যে মায়ের সন্তান ৪ মাস ঘরে বসে দিন গুনলো তার একদিনের ভুলে করোনা হোক??
তাহলো চার মাসের এ আত্মসংযমের ফল কি রইলো?

পয়েন্ট ৩.
সকল শিক্ষার্থীর স্মার্ট ফোন নেই এখন এই পরীক্ষার জন্য ১০,০০০/২০,০০০ টাকা দিয়ে মোবাইল কিনবে???

সন্তান আবাদার করবে ঠিকি অভিভাবক কি করবে যদি সামর্থ না থাকে, যদি এই ১০/২০ হাজার টাকা পরবর্তী ২ মাসের খাবারের জন্য জমানু টাকা থাকে??
আমরা যারা স্নাতক পড়াশোনা করি তাদের মাঝেই অনেকের স্মার্ট ফোন নেই আরতো উচ্চমাধ্যমিক..
বলতে পারেন অভিভাবকের কি নাই??
তাহলে উত্তর একজন ১০০ মন ধান উৎপাদন কারী বাবাও একটা বাটন ফোনেই সন্তুষ্ট মার্ক জোকার বার্কের ফেসবুকের কল্যানের প্রতি আগ্রহী না কারন তার কোমড় বেকিয় পরিশ্রম করে রোজগার করতে হয়।
সে ক্ষেত্রে একজন নিম্ন আয়ের অভিভাবকের কি হাল হতে পারে ভাবুন?

পয়েন্ট ৪. আপনারা সরকারি নির্দেশে দায়া অনলািনে ক্লাস নিলেন কতজন ছাত্র তা দেখেছে কিংবা সংযুক্ত ছিলো তা আর বলার অবকাশ রাখে না..

পয়েন্ট৫.
আমি চাইবো ছাত্র-শিক্ষক, দেশ-কালের সঠিক পর্যালোচনার মাধ্যমে যে কোন সিদ্ধান্ত নিবেন, এই মহামারী দূর্যোগের সময় কারো উপর পাথর চাপিয়ে দিবেন না। শুধু রয়েল মিডিয়া কলেজ নয় সকল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন।

২): আমরা আজ সত্যি হতভম্ব।
রয়েল মিডিয়া কলেজে আমরা পড়ছি,তাই রয়েল মিডিয়া আমাদের কাছে সবচেয়ে ভালো৷ কলেজ আর এটাই স্বাভাবিক। আমরা সেটা নিয়ে গর্ব করি। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাবিশ্ব নিস্তব্ধ। আমাদের অবস্থাও খুব খারাপ। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছে ছাত্র ছাত্রিরা। কারণ বিগত চার মাস যাবত স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা সবকিছু বন্ধ আছে। তাই বুঝতেই পারছেন ছাত্র ছাত্রিদের পড়াশোনার অবস্থা। আর সরকার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনলাইনে ক্লাসের ব্যাবস্থা করেছে। যেমনটা আমাদের রয়েল মিডিয়া কলেজেও চলছে। এখন আমাদের কথা হচ্ছে অনলাইনে যে ক্লাস করানো হচ্ছে, সকল ছাত্র ছাত্রি সেই ক্লাস করছে কিনা তার খবর কিন্তু সরকার বা কলেজ থেকে নেওয়া হচ্ছে না। আমরা আমাদের কলেজের প্রসঙ্গে বলতে চাচ্ছি, কলেজে যে অনলাইন ক্লাস করানো
হচ্ছে, সকল ছাত্র ছাত্রি সেই ক্লাস করছে কিনা তার খবর কিন্তু সরকার বা কলেজ থেকে নেওয়া হচ্ছে না। আমরা আমাদের কলেজের প্রসঙ্গে বলতে চাচ্ছি, কলেজে যে অনলাইন ক্লাস করানো হচ্ছে সেই ক্লাস কিন্তু সবাই করতে পারছে না কারণ সব স্টুডেন্ট এর হাতে স্মার্টফোন নেই, অনেকের এলাকার নেট সমস্যা, অনেকের ডাটা কিনতে সমস্যা হয় যার কারণে প্রায় ৯০% স্টুডেন্টদের অনলাইনে ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। আপনারা কিন্তু সে খবর জানেন না। (কলেজ কর্তৃপক্ষ)। ইতিমধ্যেই আপনারা কলেজে অনলাইন পরীক্ষার কথা জানিয়ে একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। যেখানে ক্লাস করাই সম্ভব হচ্ছে না অনেকের সেখানে এক্সাম কিভাবে সম্ভব। আর আপনারা এটাও বলে দিয়েছেন যে, ১৬ তারিখের মধ্যে কলেজের যাবতীয় টাকা ৫৬০০/-(মানবিক) ৬১০০/-(বিজ্ঞান) জমা করে দিতে হবে। এখন কথা হচ্ছে রয়েল মিডিয়া পড়া মানে যে সবার বাড়িতে গোলা ভড়া ধান, ব্যাগ ভর্তি টাকা থাকবে তা না। এখনে অনেক স্টুডেন্ট আছে যারা মধ্যবিত্ত ঘরের। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে যেখানে এসব পরিবার তাদের নিজের পারিবারি চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে সেখানে কলেজ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হইছে সেটা তাদের কাছে কোন এক ঝড়ের সাথে মোকাবিলার চেয়ে কম না। আবার সামনেও মুসলমান দের পবিত্র ঈদ ঊল আযহা। এখন আপনারাই বলেন (কলেজ কর্তৃপক্ষ) এক অনলাইন পরীক্ষার বিষয়টা ঈদের আগে স্থগিত বা বাতিল করবেন। একটু মানবিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলেই হবে কারণ পরিস্থিতি এখন নরমাল না।

এ‌দি‌কে অ‌ভিভাবকগণের মন্তব্য যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারছে না এবং শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না বা সেবা পাচ্ছে না এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক টিউশন ফি আদায় করতে পারে কিনা। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন পুরোপুরি বা আংশিক মওকুফ করেছে। যেটা অত্যন্ত সময়োপযোগী, যুক্তিসঙ্গত এবং মানবিক।

জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কা‌ছে শিক্ষার্থীদের বেতন স্থগিতের আবেদন জানিয়েছেন দে‌শের বি‌ভিন্ন স্বুল ক‌লে‌জের অভিভাবকরা।

দেশের শিক্ষার দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু সাংবা‌দিক‌দের বলেন, যেখানে অভিভাবকরা বর্তমানে কঠিন উদ্বেগে দিন কাঠাচ্ছেন। অনেকের উপার্জন বন্ধ ও চাকরির বেতন-ভাতা পাননি। কেউ কর্মহীন অবস্থায় আছেন। সেখানে এভাবে চাপ প্রয়োগ অনৈতিক। এ অভিভাবক নেতা আরও বলেন, অভিভাবকদের দুরবস্থা বিবেচনা করে আমরা ৬ মাসের টিউশন ফি মওকুফের আবেদন জানিয়ে আসছি।

এমন পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করাটা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই সকল সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে আদায়যোগ্য মাসিক বেতনের অর্ধেক মওকুফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অনুরোধ জা‌নি‌য়েন স‌চেতন মহল।