পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর আর নেই

গৌরীপুর নিউজ
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ /

স্টাফ রিপোর্টার : প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. শাহ আলমগীর আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গত দুই বছর ধরে ভারতের চেন্নাইতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন শাহ আলমগীর। গত ৪ তারিখে তিনি সিঙ্গাপুর যান চিকিৎসার জন্য। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০ ফেব্রুয়ারি জানান, শাহ আলমগীর লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া, উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা ও ডায়াবেটিসসহ আরও কিছু জটিলতা তার শরীরে দেখা দেয়।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, শাহ আলমগীরের রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গিয়েছিল। ডায়াবেটিসসহ তিনি নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
শাহ আলমগীরের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি এক ছেলে ও মেয়ে সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ফৌজিয়া বেগম একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন।
২০১৩ সালের ৭ জুলাই পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন এই সাংবাদিক। সরকার ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তার চাকরির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ায়।
শাহ আলমগীরের সাংবাদিকতা পেশার শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর সাপ্তাহিক ‘কিশোর বাংলা’ পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। এর পর তিনি কাজ করেন দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদে।
প্রথম আলো প্রকাশের সময় থেকেই শাহ আলমগীর পত্রিকাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুগ্ম বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এর পর তিনি টেলিভিশন মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন।
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬, ‘চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক ২০০৫’, ‘রোটারি ঢাকা সাউথ ভোকেশনাল এক্সিলেন্স এওয়ার্ড ২০০৪’ এবং ‘কুমিল্লা যুব সমিতি এওয়ার্ড ২০০৪’ পেয়েছেন শাহ আলমগীর।

আপনার মতামত লিখুন :